
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্ত্রী তানজিদা আক্তার পপিকে হত্যার দায়ে স্বামী হীরা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হীরা চৌধুরী ফতুল্লা থানার পূর্ব লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ওমর চৌধুরী তুহিনের ছেলে। নিহত তানজিদা আক্তার পপি ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার মৃত আলী আশরাফের মেয়ে। পারিবারিক সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছিল।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইউম খান জানান, ২০২১ সালের ২৬ মে সংঘটিত হত্যা মামলার বিচার শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন। মামলার তদন্ত ও বিচার চলাকালে আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে পপির পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতে তার পরিবার বারবার সেই দাবি পূরণ করেছে। এমনকি হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও পপির মা ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন।
পরদিন পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়, পপি শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পরে নিহতের ছোট ভাই মো. শাকিল বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত হীরা চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।
