
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নির্ধারিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা সরকারের নজরে এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা ও যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে।
তিনি জানান, কয়েকটি মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের ঘটনা ইতোমধ্যে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০ গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং শিল্প, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ লক্ষ্যে কুতুবজোনে নতুন একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে
জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদসহ উপযুক্ত স্থানে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
এ ছাড়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ডিজেলচালিত পাম্পগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষি ও সেচ খাতে জ্বালানি ব্যয় কমার পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা
ভোলার গ্যাসসম্পদ কাজে লাগিয়ে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, ভোলায় ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। স্থানীয় গ্যাসসম্পদ ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জেলার শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগাতে মেরিন প্লানিং জোন
দেশের অর্থনীতিতে সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের অবদান বাড়াতে পাঁচ বছর মেয়াদি সামগ্রিক মেরিন প্লানিং জোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মৎস্যসম্পদ, নৌপরিবহন, জ্বালানি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে ইলেকট্রিক ট্রেন
দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর অংশ হিসেবে পুরো রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তর, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নকশাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সমুদ্রসম্পদের ব্যবহার এবং রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে আসে।
