• শুক্র. জুলা ১০, ২০২৬

দুই বৈধ ওয়ারিশের নাম বাদ দিয়ে ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতির অভিযোগ

ByShirso aparadh

জুলা ১০, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের একটি শতবর্ষের পুরোনো সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে ওয়ারিশ সনদে অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুই বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম গোপন রেখে একটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয় এবং পরে সেই সনদের ভিত্তিতে একক নামে খারিজ (নামজারি) সম্পন্ন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, নারান্দিয়া ইউনিয়নের আলোচিত ১১ শতক জমির মধ্যে মইদুর সওদাগর বৈধ দলিলের মাধ্যমে ৮ শতক এবং বজলু রহমান ৩ শতক জমি আউয়াল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ক্রয় করেন। তাদের দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আউয়ালের পিতা মরহুম মোহাম্মদ আলীর দখলে ছিল এবং সিএস, আরএস ও বিএস রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রেও মালিকানার তথ্য রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৫ সালে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এমন একটি ওয়ারিশ সনদ ইস্যু করা হয়, যেখানে মরহুম আবদুর রহমানের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে শিরু মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। পরে ওই সনদের ভিত্তিতেই একক নামে খারিজ খতিয়ান গ্রহণ করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, মরহুম আবদুর রহমান ১৯৬০ সালে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে—আক্কাস আলী ও শিরু মিয়া এবং এক মেয়ে জাবেদা বেগমকে রেখে যান। অথচ বিতর্কিত ওয়ারিশ সনদে আক্কাস আলী ও জাবেদা বেগমের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের আইনগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিরু মিয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হলেও সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশ সনদে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যের প্রত্যয়ন ও স্বাক্ষর রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া কীভাবে ওই সনদ ইস্যু করা হলো।

এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, আবদুর রহমানের মৃত্যুর বহু বছর পর তার নামে বিএস রেকর্ড কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো এবং সেই রেকর্ডের ভিত্তিতে নামজারি সম্পন্ন হলো—এ বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সরকারি নথি প্রণয়নে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দুই বৈধ উত্তরাধিকারীর নাম গোপন করে ওয়ারিশ সনদ তৈরি, সেই সনদের ভিত্তিতে খারিজ গ্রহণ এবং পুরোনো সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, ভূমি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রবীণ এলাকাবাসী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, ওয়ারিশ সনদ ইস্যুর আগে প্রকৃত উত্তরাধিকারী যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights