আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা Islamic Republic News Agency (আইআরএনএ), আধা সরকারি Tasnim News Agency (তাসনিম) এবং আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট Fars News Agency (ফার্স) তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।
রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় জানানো হয়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। তাঁর মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।
হামলার প্রেক্ষাপট
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump আগেই দাবি করেছিলেন যে খামেনি নিহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমগুলো তা নিশ্চিত করে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu ইঙ্গিত দেন, অভিযানের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তেহরানে শোক, বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া
তেহরানে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে শোক প্রকাশ করছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনিকে “শহীদ” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে মসজিদ ও সরকারি ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা
১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন খামেনি। তাঁর মৃত্যুর পর দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন—তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ পরিষদ নতুন নেতা নির্বাচন করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এটি একটি বড় মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পরবর্তী আপডেটের দিকে নজর রাখছে বিশ্ব।
