• সোম. জুন ১৫, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে চুক্তির দাবি, আজ রাত থেকেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে

ByShirso aparadh

জুন ১৫, ২০২৬


আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতে অবস্থিত ইরানের কূটনৈতিক মিশনের এক বার্তায় জানানো হয়, লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক অভিযান ও সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আজ রাত থেকেই কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, এই সমঝোতার আওতায় ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে তেহরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চুক্তির প্রতিটি ধারা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ শিথিল করার বিষয়েও মন্তব্য করেন। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত কোনো বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে আলোচনার প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ না নেওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘোষিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য—যেমন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমানো এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন হ্রাস—এই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
তবে চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় কী ধরনের অগ্রগতি আসে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এখনই দেখুন

Verified by MonsterInsights