মাহমুদুল হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন— ‘দেশের বাইরে আমার কোনো জায়গা নেই, মরলে দেশেই মরব’। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সেই ইচ্ছা কবুল করেছেন। তিনি বীরের মতো বিদায় নিয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিইএবি) আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে বাড়িছাড়া করা হয়েছিল। বিনা চিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তবুও উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি।” তিনি আরও বলেন, “আজ খালেদা জিয়া বীরের মতো বিদায় নিয়েছেন, আর শেখ হাসিনার জন্য নির্মম ভাগ্য অপেক্ষা করছে।”
তিনি আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, “যারা আওয়ামী লীগকে আশ্রয় দিচ্ছেন, তাদেরও প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে।”
মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু লোক উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে—কখনো তার বিরুদ্ধে, কখনো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে। “কয়েকজনের কথা শুনে মনে হয় নির্বাচন শুধু ঢাকা-৮ আসনেই হচ্ছে। আমাকে হারাতে পারলেই বিএনপিকে হারানো যাবে—এমন ভাবনা ভুল। সারা দেশে যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা ধরে রাখতে পারলেই বিএনপি জয়ী হবে ইনশাল্লাহ।”
তিনি বলেন, “আমি একা জিতলেই হবে না, বিএনপিকে জিততে হবে। দেশের মানুষ কয়েকজন নোংরা লোক থেকে মুক্তি চায়। আমি ঝগড়া করব না। প্রয়োজনে বাসায় এসে চা-বিরিয়ানি খাবেন, কিন্তু দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না।”
বিএনপি আওয়ামী লীগকে আশ্রয় দিচ্ছে—এমন অপপ্রচারের জবাবে তিনি বলেন, “বিএনপির জন্ম হয়েছে জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। জাতীয়তাবাদ ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা বিএনপি করে না।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। সচিবালয়ে পোস্টিং দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে। বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বলব—কোনো ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করবেন না, প্রতিহত করবেন।”
তিনি তার এলাকার এক প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, “আপনি যদি জনপ্রিয় হন, তাহলে নিজ এলাকায় নির্বাচন করছেন না কেন? অনেকে নিজ এলাকায় ঢুকতেই পারেন না, তাই ঢাকা বেছে নেন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র-শিক্ষক পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের সদস্য সচিব প্রকৌশলী ইমাম ইদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইডিইবি অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. কবীর হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন ডিইএবের সদস্য সচিব প্রকৌশলী কাজী সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইডিইবি অন্তর্বর্তীকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দপ্তর) প্রকৌশলী মীর হোসেন পাটোয়ারী ও ডিইএবের সদস্য গাজী মোহাম্মদ সেলিম।
দোয়া মাহফিলে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এতে আইডিইবির নেতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়াসহ ডিইএবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।
