
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এ চারটি দামি লিফট চুরির ঘটনা এখন আর সাধারণ কোনো চুরি হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এটি একটি সুসংগঠিত দুর্নীতি চক্রের অংশ বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং নৈতিক অবক্ষয়ের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির প্রধান ভবনের বেজমেন্ট থেকে জার্মান ব্র্যান্ড শিন্ডলারের চারটি লিফট সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রতিটি লিফটের ধারণক্ষমতা ছিল ১৮ থেকে ২০ জন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আটটি ট্রাক ব্যবহার করে এই অপারেশন সম্পন্ন করা হয়, যা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও সংগঠিত কর্মকাণ্ড হিসেবে নির্দেশ করে।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে—
অভিযোগ রয়েছে, লিফটগুলো প্রায় ৩৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় এবং এর মধ্যে বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী আলী আকতার হোসেনের নামও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তার ‘মৌখিক নির্দেশে’ লিফট বিক্রি করা হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করছে না।
লিফট অপসারণের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। আরও অভিযোগ রয়েছে—
এসব পদক্ষেপকে প্রমাণ নষ্ট করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
এসব কর্মকাণ্ড তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো আরও গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছে। বলা হচ্ছে—
৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে একটি কক্ষে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিয়মিত সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজের বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সূত্র বলছে, এই চক্রটি এলজিইডির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। নতুন কোনো প্রধান প্রকৌশলী যোগ দিলেই তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান বদলের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। একই বছরের ২১ জুলাই থেকে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্তের নির্দেশ দিলেও কার্যকর ফলাফল পাওয়া যায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—
চারটি লিফট চুরির ঘটনা এখন একটি বৃহৎ দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন—
সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম অব্যাহত থাকলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এলজিইডির এই ঘটনা শুধু একটি চুরির ঘটনা নয়, বরং একটি বড় দুর্নীতি চক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/