
বিশেষ প্রতিনিধি || মনোহরগঞ্জ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চিকিৎসা কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় থানার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর ইসলাম এবং এসআই মোশারফ হোসেন সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ওই সময় জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা দেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা ৫৬ মিনিটে। জানা যায়, এক আহত ব্যক্তি, যাকে স্থানীয়ভাবে “চোর” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে চিকিৎসার জন্য মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ মফিজুর রহমান রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
ঠিক সেই সময়ই থানার ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
চিকিৎসকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, পুলিশ সদস্যরা—
এছাড়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে “সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি” করার মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়, যা পরে তদন্তে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রিংঙ্কা চক্রবর্তী তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটি হাসপাতালের কর্মীদের জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়—
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা আংশিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের কাজের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একজন চিকিৎসক জানান, তিনি বর্তমানে মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্বাস্থ্যকর্মীরা মনে করছেন, জরুরি বিভাগে এমন হস্তক্ষেপ রোগীর সেবা ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিযোগের বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিনুর ইসলাম তার বক্তব্যে ঘটনাটির ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন।
তার দাবি অনুযায়ী, এক চোরকে স্থানীয়রা মারধর করে গুরুতর আহত করে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং শুধুমাত্র তার অবস্থা যাচাই ও প্রেসার মাপার অনুরোধ করে।
তিনি আরও জানান, রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, একজন সদস্য আহত আসামির নিরাপত্তার জন্য সেখানে অবস্থান করেন।
ঘটনাটি এখন অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ বলছে ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি এবং পরিস্থিতিগত উত্তেজনার ফল।
এ ঘটনায়—
এই তিনটি বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
তারা দ্রুত তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতাল হলো এমন একটি সংবেদনশীল স্থান যেখানে চিকিৎসা সেবা বাধাহীনভাবে চলা জরুরি। সেখানে কোনো ধরনের চাপ, হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে রোগীর জীবনরক্ষার ওপর।
এই ঘটনাটি তাই শুধুমাত্র একটি স্থানীয় বিরোধ নয়, বরং—
এই বিষয়গুলোর ওপরও বড় প্রশ্ন তুলেছে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন তদন্ত ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি, অন্যদিকে পুলিশের ব্যাখ্যা-সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল রূপ নিয়েছে।
তবে স্থানীয়ভাবে একটি বিষয় স্পষ্ট, চিকিৎসা সেবার পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এখন সবচেয়ে জরুরি। এ ঘটনায় প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে পরবর্তী দিকনির্দেশনা।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/