• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

বি আর টি এ-র এক কর্মকর্তার ঘনঘন একই স্থানে পোস্টিং: প্রভাব, প্রক্রিয়া নাকি অন্য কিছু?

Byadmin

মার্চ ৩, ২০২৬


প্রতিবেদক: সোহেল রানা

সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। তবে এক কর্মকর্তা যদি বছরের পর বছর ঘুরে ফিরে একই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এটি কি কেবল প্রশাসনিক প্রয়োজন, নাকি এর পেছনে আছে প্রভাব-প্রতিপত্তি বা বিশেষ সুপারিশ?
এমনই প্রশ্ন উঠেছে (বি আর টি এ)-এর লাইসেন্স বিভাগের কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে ঘিরে। বর্তমানে তিনি এডি (সহকারী পরিচালক) হিসেবে নিকুঞ্জ কার্যালয়ে কর্মরত বলে জানা গেছে।
পোস্টিংয়ের ধারাবাহিকতা: কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত?
অভিযোগ অনুযায়ী—
তিনি প্রথমে মিরপুরে মেকানিক্যাল পদে যোগদান করেন।পরবর্তীতে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান।
এরপর খিলক্ষেতে বদলি।সেখান থেকে নরসিংদী।
আবারও খিলক্ষেতে এডি হিসেবে প্রত্যাবর্তন।
প্রশ্ন উঠেছে—একই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে (মিরপুর ও খিলক্ষেত) বারবার ফিরে আসার পেছনে কী কারণ? এটি কি দক্ষতার স্বীকৃতি, নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য প্রভাব?
দ্বিতীয় এডি হিসেবে নিয়োগ: নিয়ম না ব্যতিক্রম?
আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে—খিলক্ষেতে একজন এডি দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও জিয়াউর রহমানকে দ্বিতীয় এডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগটি প্রভাবশালী রাজনীতিক -এর সুপারিশে হয়েছে।
যদি এমন সুপারিশে নিয়োগ হয়ে থাকে, তবে তা প্রশাসনিক বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—সে প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, কর্মকর্তার নামে বা সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক সম্পত্তির তথ্য রয়েছে:
বসুন্ধরা আ/এ, বাড়ি-৪১৩, রোড-৯, ব্লক-এফ
বসুন্ধরা আ/এ, রোড-১৩, ব্লক-জে
এছাড়া ব্যবহৃত গাড়ি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:
টয়োটা প্রিয়াস (ঢাকা মেট্রো গ ১৬-১৪১৭)
তবে এসব সম্পত্তি ও যানবাহন তার ঘোষিত আয় ও সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাই প্রয়োজন।স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কোথায়?
প্রশ্নগুলো এখন স্পষ্ট—
কেন বারবার একই জোনে পোস্টিং?
দ্বিতীয় এডি হিসেবে নিয়োগের প্রশাসনিক যৌক্তিকতা কী?প্রভাবশালী সুপারিশ থাকলে তা বিধিসম্মত ছিল কি না?
সম্পদের উৎস ও আয় বিবরণী কি যথাযথভাবে ঘোষণা করা হয়েছে?
প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি কেবল একজন কর্মকর্তার বিষয় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে। আর অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারও উচিত হবে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করা।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য প্রতিবেদক একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করেন এবং খুদে বার্তাও (টেক্সট) পাঠান। তবে কোনো কল বা বার্তারই তিনি জবাব দেননি। পরবর্তীতে দেখা যায়, প্রতিবেদকের নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights