আব্দুল আজিজ কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লায় তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো.ফরিদ সরকারকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার (২মার্চ) দুপুরে সদ্য বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মো.ফরিদ সরকার,স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন,আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এবং কোনো প্রকার নোটিশ না করে হঠাৎ করে ২৮ ফেব্রুয়ারী বিকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূইয়া ফেসবুক আইডিতে দেখতে পাই সভাপতি ওসমান গনি ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করার অভিযোগ এনে আমাকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে আবিস্কার করা হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার ১৭ বছরে হামলা -মামলার শিকার হয়েছি এবং বাড়িতে ঘুমাতে পারিনাই,পুলিশের ভয়ে ঠিক মতো নিজের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারিনাই তার পরও দলের আদর্শ বিচুত্ত হয়নি। এতো ত্যাগের পরও ২০২৫ সালে ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূইয়া আমার কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে পুনরায় ভিটিকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত করেছেন।টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে জানালে ওই ক্ষোভ থেকে আজ জাতীয় নির্বাচনের পর আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করেছে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কুমিল্লা-২(হোমনা-তিতাস) আসনের নবনির্বাচিত এমপি অধ্যক্ষ মো.সেলিম ভূইয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ফরিদ সরকার আরো বলেন,আমি ১৯৯১ সালে থেকে ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেনের হাত ধরে বিএনপির রাজনীতিতে আসি এবং একই বছর বৃহত্তর ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই।পর্যায় ক্রমে যুবদলের সভাপতি এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০২৫ সালেও আমি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছি।
এবিষয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো.ওসমান গনি ভূইয়া বলেন, ফরিদ সরকারসহ একটি চক্র দলীয় পোস্ট পদবী থাকা সত্বেও দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন করেছে যা আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। অন্যান্যদেরকেও বহিষ্কার করা হবে। ফরিদ সরকারের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে সভাপতি বানানো হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওসমান গনি বলেন,ফরিদ সরকারের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
উল্লেখ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করার অভিযোগে ফেব্রুয়ারী মাসের শুরু থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের প্রায় ৩০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
