• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

ভোটে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্য নিয়োগে আপত্তি বিএনপির

Byadmin

ফেব্রু. ২, ২০২৬


★পর্যবেক্ষক নিয়োগ, ভোটার স্থানান্তর ও ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারের অভিযোগও তুলে ধরা

মাহমুদুল হাসান :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ১৬ হাজার সদস্যকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির দাবি, শিক্ষার্থী হওয়ায় বিএনসিসি ক্যাডেটদের নির্বাচন মতো জটিল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করলে তারা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হয়ে পড়তে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এসব আপত্তি ও অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ, অস্বাভাবিক ভোটার স্থানান্তর, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রচারণায় ধর্মীয় আবেগ ব্যবহারের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের সদস্যরা মূলত শিক্ষার্থী। সংসদ নির্বাচনের মতো একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের যুক্ত করা যুক্তিসংগত নয়। বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে স্কাউট বা গার্লস গাইডদেরও নির্বাচনের কাজে যুক্ত করার দাবি উঠতে পারে।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নির্বাচন আইনে যাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাদের ওপরই থাকা উচিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিএনপির বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার দেশীয় ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে অনেক সংস্থা তেমন পরিচিত নয়। একসঙ্গে অতিরিক্ত সংখ্যক পর্যবেক্ষক মাঠে থাকলে নির্বাচন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে বিএনপির অভিযোগ, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিশেষ কিছু এলাকায় হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার যুক্ত হওয়াকে সন্দেহজনক বলে উল্লেখ করেন নজরুল ইসলাম খান। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যায় বিএনপি সন্তুষ্ট নয় বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটার আইডি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ) নম্বর সংক্রান্ত যেসব কেলেঙ্কারি হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ভুয়া ভোটার তৈরি বা ভোটার স্থানান্তরের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনি এলাকায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করে বিএনপি। এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি তাদের কাছে অপ্রিয়। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি।
ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে বহিরাগতদের নির্বাচনি এলাকা ত্যাগ নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপি। প্রচারণা বন্ধ হওয়ার পর ভোটার নন—এমন ব্যক্তিদের নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগে আঘাত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে বিএনপি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন দলটির নেতারা।
সিইসির সঙ্গে জামায়াতের নারী নেত্রীদের বৈঠক
একই দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার প্রতিনিধিরা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নারীদের ভোট দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
জামায়াতের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ নারী ভোটার সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়। কিন্তু নারীদের ভোটের মাঠে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর পেছনে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের নারী শাখার সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম ও ডা. হাবিবা চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান এবং সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights