সোহেল রানা, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম তালুকদারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঠিকাদারদের প্রাণনাশের হুমকি এবং বিদেশে পালানোর প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর দাখিলকৃত একাধিক লিখিত অভিযোগে বলা হয়, রকিবুল ইসলাম তালুকদার বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। ঠিকাদারদের ঘুষ গ্রহণ, ড্রেজার ও সহযোগী জাহাজের তেল চুরি, ভুয়া বিল তৈরি, বেসরকারি কনসালট্যান্ট নিয়োগে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারসাজিসহ নানা অনিয়মের প্রমাণ উঠে এসেছে।
অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:
বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ঘুষ ও কমিশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন।
তার ও পরিবারের নামে বহুতল ভবন, একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, শালবাগান ও হাউজিং প্রকল্প।
শেয়ারবাজারে প্রায় ৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ।
হুন্ডির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার।
৩৫টি ড্রেজার ও ২০০টি জাহাজে জ্বালানি চুরি এবং মেরামতের নামে ভুয়া বিল।
মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ঠিকাদার খন্দকার হেদায়েত ইসলাম জানান, তিনি বিগত ২১ এপ্রিলের এক দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি পান। এর আগে ২০১৫ সালে মেসার্স ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড-এর স্বত্বাধিকারী মো. নজরুল ইসলামও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন, তবে সেই তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি।
ড্রেজিং বিভাগে টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালনকালে এসব অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
এদিকে গোপন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দুর্নীতির প্রমাণ প্রকাশ্যে আসায় রকিবুল ইসলাম তালুকদার আজ রাতেই বিদেশে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অসুস্থতার অজুহাতে চিকিৎসার নামে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তিনি নাটকীয়ভাবে অসুস্থতার ভান করছেন।
সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ লুটপাট করে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের বিচার চিরতরে অধরা থেকে যাবে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক প্রভাব ও উচ্চ পর্যায়ের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রকিবুল ইসলাম তালুকদার এতদিন বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এখনই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
