
আসামির পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকির অভিযোগ, সুষ্ঠু বিচারের দাবি এলাকাবাসীর
ওসমান গনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি অমিমুল হাসান সাদ (১৯)কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিমগাঁও এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এর অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এফরান খান।
গ্রেফতারকৃত অমিমুল হাসান সাদ কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে অমিমুল হাসান সাদ ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে তার নিজ বাড়ির চারতলার একটি নির্মাণাধীন কক্ষে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ইট দিয়ে মুখ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চারতলা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিচে এনে রাস্তায় ফেলে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ডিবিকেপি হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে অমিমুল হাসান সাদকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-১১ ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
হুমকি-ধামকির অভিযোগ
এদিকে, ঘটনার পর থেকে আসামির পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকির অভিযোগ তুলেছেন এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, আসামির বাবা এলাকায় প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে কথা বলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেসবুকে ঘটনার বিষয়ে পোস্ট বা প্রচারণা না চালানোর জন্যও কয়েকজনকে চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামির পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আসামির পরিবার আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করে মামলার তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন। তবে এসব আশঙ্কার পক্ষে কোনো প্রমাণের কথা তারা উল্লেখ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আসামি যে পক্ষেরই হোক, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা আর্থিক প্রভাবমুক্ত থাকে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, “এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
