
বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন নির্দেশনায়। বাংলাদেশ সরকার এটিকে দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খোলার সম্ভাব্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, একজন বিদেশি কর্মী নিয়োগ থেকে শুরু করে মালয়েশিয়ায় কাজে যোগ দেওয়া পর্যন্ত মোট আটটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।
প্রথম ধাপে নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মীর চাহিদা জানিয়ে অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শূন্য পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়ান-স্টপ সেন্টারে বিদেশি কর্মীর কোটা চেয়ে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই ও সাক্ষাৎকারের পর কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে।
এরপর নিয়োগদাতাকে লেভি বা সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
পঞ্চম ধাপে কর্মীর নিজ দেশে মালয়েশিয়ান দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ ও মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
সপ্তম ধাপে কর্মীর জন্য ভিসা উইথ রেফারেন্স (ভিডিআর) সংগ্রহ করতে হবে। সবশেষে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন।
বাংলাদেশে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তালিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মালয়েশিয়ার নতুন নির্দেশনা এসেছে। এর আগে বাংলাদেশ থেকে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং ৪০টির বেশি মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ করেছিল মালয়েশিয়া। এ নিয়ে ‘সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৪ সালের জুনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। দুই দেশের মধ্যে ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন চুক্তি বা সমঝোতা নিয়ে পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফলে মালয়েশিয়ার নতুন নিয়োগ নির্দেশনাকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
