• শনি. আগ ১৫, ২০২৬

Daily Shirso Aparadh

ঘটনার অন্তরালের সত্য উদ্‌ঘাটনে

রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট

ByShirso Aparadh

আগ ১৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। কোথাও গ্যাস নেই, কোথাও আবার গ্যাস থাকলেও চাপ এত কম যে স্বাভাবিকভাবে গাড়িতে জ্বালানি দেওয়া যাচ্ছে না। আর যেসব স্টেশনে কিছুটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে দেখা দিয়েছে গাড়ির দীর্ঘ সারি। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর প্রগতি সরণির আবুল হোটেল থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এই সড়কের ওই অংশে চারটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি স্টেশনে সম্পূর্ণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। আরেকটি স্টেশনে গ্যাসের চাপ ছিল কম। অপর স্টেশনটিতেও গ্যাস পাওয়া গেলেও চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন জ্বালানি সংগ্রহ করতে তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। কোনো স্টেশনে গ্যাস না পেয়ে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে ছুটতে হচ্ছে। আবার গ্যাস থাকলেও কম চাপের কারণে সিলিন্ডারে পর্যাপ্ত জ্বালানি নিতে পারছেন না তারা।

ফলে কয়েকটি ট্রিপ দেওয়ার পরই আবার গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ চালকদের।

রাজধানীর হাজীপাড়া এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গ্যাস থাকলেও চাপ তুলনামূলক কম। গ্যাস নেওয়ার জন্য প্রাইভেটকার ও সিএনজি অটোরিকশার দীর্ঘ সারি রামপুরার মোল্লা টাওয়ার এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাড়ির ভেতরে বসে কিংবা বাইরে দাঁড়িয়ে গ্যাসের অপেক্ষা করছেন চালকরা।

স্টেশনটির কর্মীরা জানান, শুক্রবার তাদের স্টেশনে গ্যাসের চাপ ছিল প্রায় ১৮০ বার। শনিবার চাপ কিছুটা বেড়ে ১৯০ বারে উঠলেও তা স্বাভাবিক নয়। পাশাপাশি দুটি নোজল বন্ধ রয়েছে। বাকি দুটি নোজল দিয়ে সীমিত পরিসরে গাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

সিএনজি চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগের রাতে গাড়িতে থাকা গ্যাস দিয়ে শনিবার সকাল ৬টার দিকে বের হন তিনি। সকাল ৮টার দিকে মাত্র ৪০০ টাকার মতো ট্রিপ দেওয়ার পর গ্যাস শেষ হয়ে যায়। এরপর মোল্লা টাওয়ারের সামনে লাইনে দাঁড়ান। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো ট্রিপ দিতে পারেননি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রচণ্ড রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। গ্যাসের জন্য সময় নষ্ট হওয়ায় দিনের আয়ও কমে যাচ্ছে।

প্রাইভেটকার চালক রাশেদুল জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লাইনে দাঁড়ানোর পর দুপুর সোয়া ১২টার দিকে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে পেয়েছেন মাত্র সাড়ে ৪০০ টাকার মতো গ্যাস। তার ভাষায়, এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে কয়েকটি ট্রিপ দেওয়া গেলেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে মেরুল বাড্ডার জামান সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা মধ্য বাড্ডা মোড়ের সিটিজেন সিএনজি অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনেও। সেখানেও গ্যাস না থাকার ঘোষণা দিয়ে গাড়িতে জ্বালানি দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।

উত্তর বাড্ডার মক্কা সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনেও দেখা যায় গাড়ির দীর্ঘ সারি। তবে সেখানে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না। স্টেশন কর্মীরা জানান, ওই স্টেশনে গ্যাসের চাপ মাত্র ১২০ বার। এত কম চাপে গাড়িতে স্বাভাবিকভাবে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসের এমন সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা চালকরা। দিনের বড় একটি অংশ যদি জ্বালানি সংগ্রহে চলে যায়, তাহলে নির্ধারিত ট্রিপের সংখ্যা কমে যায়। এতে চালকদের দৈনিক আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদেরও পরিবহন সংকটে পড়তে হচ্ছে।

চালকদের দাবি, রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং চাপ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সারি, সময়ের অপচয় ও আর্থিক ক্ষতির এই ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

রাজধানীর গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের একটি বড় অংশ সিএনজিনির্ভর হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে এমন সংকট অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights