• শুক্র. জুলা ১০, ২০২৬

জন্মভূমি মাশহাদেই চিরনিদ্রায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনি

ByShirso aparadh

জুলা ১০, ২০২৬

*ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের পর সমাহিত, লাখো মানুষের শেষ বিদায়ে আবেগঘন পরিবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা ছয় দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা শেষে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র ইমাম রেজা (আ.) মাজারের নিকট তাকে সমাহিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে ইরানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

দাফনের আগে রাজধানী তেহরান, ধর্মীয় নগরী কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালাসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক দিনের শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ মাশহাদে পৌঁছানোর পর মরদেহবাহী শোভাযাত্রায় লাখো মানুষ অংশ নেন। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ ফুল ছিটিয়ে এবং জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি হাতে শেষ শ্রদ্ধা জানান। ধর্মীয় আলেমরাও মরদেহবাহী গাড়ির সঙ্গে হেঁটে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

পরিবারের সদস্য ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। খামেনির বড় ছেলে মোস্তফা খামেনি জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। এছাড়া তার আরও দুই ছেলে মাসুদ ও মেইসাম খামেনিও শেষ বিদায়ে অংশ নেন। তবে মেজো ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি পুরো শোকানুষ্ঠানেই অনুপস্থিত ছিলেন। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেই তিনি প্রকাশ্যে আসেননি।

ইরানের সরকারি বর্ণনা অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ইসলামি রীতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক দাফনের পরিবর্তে কয়েক মাস পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়।

১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আলী খামেনি। ধর্মীয় শিক্ষা শেষে তিনি ধীরে ধীরে ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় ৩৭ বছর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কৌশল ও পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আলী খামেনির দাফনের মধ্য দিয়ে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় শোকপর্বের সমাপ্তিই নয়, ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও অবসান ঘটেছে। নতুন নেতৃত্বের সামনে এখন অর্থনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে জটিল কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কঠিন দায়িত্ব অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights