• শুক্র. জুলা ১০, ২০২৬

বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা: পানিবন্দি লক্ষাধিক

ByShirso aparadh

জুলা ৯, ২০২৬

এনামুল হক | চট্টগ্রাম

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উপজেলার প্রায় ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসাসংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে দুর্গত জনপদ।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় অসংখ্য পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ নলকূপ পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকটি এলাকায় টানা দুই থেকে তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে বাহারছড়া-খানখানাবাদ উপকূলীয় বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জোয়ারের সময় লবণাক্ত পানি ছনুয়া, শেখেরখীল, বড়ঘোনা, গণ্ডামারা, সরল, খানখানাবাদ, প্রেমাশিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতে কখনো বাঁশখালীজুড়ে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি।

পরিস্থিতির অবনতির পর উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সতর্কবার্তা প্রচার এবং পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

শেখেরখীলের বাসিন্দা মুজিবুল হক বলেন, অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে চলে গেছে, অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। পশ্চিম বড়ঘোনার এহতেশামুল হক হামীম জানান, কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও বাজারব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফ উল্লাহ বাঁশখালীকে জরুরি ভিত্তিতে বন্যাদুর্গত এলাকা ঘোষণা করে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।

বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বৈলছড়ি এলাকা থেকে একটি পরিবারের সাত সদস্যকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকারি ত্রাণসামগ্রী হাতে পেলেই দ্রুত দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এক বিবৃতিতে জানান, তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে থাকলেও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন। তিনি সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে খাল-ছড়া খনন, স্লুইস গেট সংস্কার ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুর্গত এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত উদ্ধার অভিযান, পর্যাপ্ত ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় বাঁশখালীর জন্য স্থায়ী বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights