
বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় পারিবারিক ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গাছ কাটা, মারধর এবং এক নারীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই পরিবারের তিন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান সিকদার বাবুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহমান সিকদারের সঙ্গে তার ভাই হারুন সিকদার এবং দুই ভাতিজা মহিউদ্দিন সিকদার ও নাঈম সিকদারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত রোববার (২৮ জুন) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে অভিযুক্তরা আব্দুর রহমান সিকদারের কাছে টাকা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে থাকা একটি মেহগনি ও একটি চাম্বল গাছ কেটে ফেলেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গাছ কাটায় বাধা দিতে গেলে আব্দুর রহমান সিকদারকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী আকলিমা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে ফেলে লাথি মেরে আহত করা হয়। একপর্যায়ে নাঈম সিকদার আকলিমা বেগমের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, হারুন সিকদার দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সম্পত্তির সুষ্ঠু ভাগ-বণ্টন না করে জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ঘটনার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তাদের মতে, বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার বিষয়টি অভিযোগকারী নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
