নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও বৈধতা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এমনকি সংসদে এসে বক্তব্য দেওয়ারও অধিকার নেই।”
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম জানান, তারা রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনেননি এবং তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে নাহিদ অভিযোগ করেন, তাকে দুদকের কমিশনার করা হয়েছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে—বিশেষ করে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা নিশ্চিত করা এবং কিছু মামলায় সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য। তিনি রাষ্ট্রপতিকে বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও ঘটনার সঙ্গেও জড়িত বলে দাবি করেন।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে একসময় তারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ নিয়েছিলেন, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখন নির্বাচিত সরকার চাইলে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অর্থনীতি ও আর্থিক খাত নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ঋণ রয়েছে, যার বড় অংশ সরকারি দলের। ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে অনেকেই নির্বাচন করার সুযোগ পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি ‘৭২ সালের সংবিধানকে অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে এর পুনর্লিখনের দাবি জানান। একই সঙ্গে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোট নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জঙ্গিবাদ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়েও সরকারের প্রতি বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন হতে হবে মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে।
শেষে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পথ ভিন্ন হলেও দেশের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে সব পক্ষের ঐক্য প্রয়োজন।
