শেখ ফরিদ উদ্দিন :
“শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আগামীর বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” — এভাবেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
সিনিয়র রিপোর্টার শেখ ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের উপযোগী করতে সরকারের পক্ষ থেকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টরা দিনরাত কাজ করছেন।
তিনি আরও জানান, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
ড. সোহেল বলেন, মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুর্নীতি দমন, বঞ্চিত শিক্ষকদের মূল্যায়ন, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পেশাগত ও ব্যক্তিগত পটভূমি
ড. সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ২০০১ সালে তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এ.এন.এম. এহছানুল হক মিলনের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনসিসি ও স্কাউটস কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ স্কাউটসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে রোভার অঞ্চলের নির্বাচিত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে মাউশির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি বিভিন্ন সময়ে বদলি ও প্রশাসনিক চাপে পড়লেও পেশাগত দক্ষতা বজায় রেখে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্তমানে তিনি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অতীত অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক পটভূমি
ড. সোহেল বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ২০০১-২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. এ.এন.এম. এহছানুল হক মিলনের এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করে, ওই সময়ে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বা তার দপ্তরের বিরুদ্ধে সরকারি কোনো সংস্থা কিংবা জনগণের পক্ষ থেকে আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। একইভাবে তার পিএস ও এপিএসদের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। অনেকের মতে, এটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক টিমের দক্ষতা ও সুশাসনের প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মন্ত্রীর সফলতার পেছনে তার পিএস ও এপিএসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যেহেতু প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি বিশাল খাত নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি করে, সেক্ষেত্রে দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা কার্যক্রমকে গতিশীল করে।
অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন
ড. সোহেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগ অতীতে বা বর্তমানে প্রমাণিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপনের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করে, শিক্ষা খাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হতে পারে। তারা এসব অপপ্রচার বন্ধ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
