নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও দেশে বাড়তে থাকা বেকারত্বের প্রেক্ষাপটে কর্মমুখী শিক্ষা চালু এবং যুবসমাজের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রবর্তনের দাবি উঠেছে। এ দাবিতে ২৪ এপ্রিল রাজধানীর ঊষা চত্বরে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে এক নাগরিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযাযের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) খন্দকার ফরিদুল আকবর। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) হারুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট জাকির সিরাজী, আলহাজ শরিফ শাকি, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আজম খান, এম এ সোহেল আহমেদ, এস এম সায়েদুল ইসলাম, সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহ আলম, কবি ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী ও জহিরুল কবিরসহ অনেকে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ ৬০ হাজার এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ, যাদের বড় অংশই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। অন্যদিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-এর এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারত্ব তুলনামূলক বেশি।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা কর্মমুখী না হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী চাকরিনির্ভর হয়ে পড়ছে এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা কমছে। ফলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী করার ওপর জোর দেন তারা।
এছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার বিষয় তুলে ধরে বক্তারা বলেন, তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ সময়ের দাবি। তাদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ জাতীয় নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
কর্মশালায় বক্তারা উল্লেখ করেন, চীন, রাশিয়া, কিউবা, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়ের মতো বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থী বা যুবকদের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত বলে মত দেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার অতীতে এ ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। এখন তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করে বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
