• মে ১৯, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে কনস্টেবলের মৃত্যু, তদন্ত শুরুঅস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে কনস্টেবলের মৃত্যু, তদন্ত শুরু

শীর্ষ অপরাধ ডেস্ক

খুলনায় রেলওয়ে পুলিশের এক কনস্টেবলের আত্মহত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে। নিহত সম্রাট বিশ্বাস দায়িত্ব পালনকালে নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় পর্যায়ে অবস্থিত রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ের অস্ত্রাগারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় সম্রাট অস্ত্রাগারের ম্যাগাজিন গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই তিনি নিজের ব্যবহৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা ছুটে আসেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের বাসিন্দা সম্রাট বিশ্বাস দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগ দেন। চাকরিরত অবস্থায় সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের নারী কনস্টেবল পুঁজা দাশের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়েতে রূপ নেয়।

জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে তারা রেজিস্ট্রি বিয়ে করেন এবং সামনে আনুষ্ঠানিক বিয়ের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। পরিবারের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে এই বিরোধ বাড়ছিল এবং ঘটনার আগের রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এতে সম্রাট মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিহতের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে সম্রাটের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দেওয়া হতো। স্ত্রীর সঙ্গে চলমান বিরোধই তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সম্রাটের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানো হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights