• মে ২০, ২০২৬

The Daily Shirso Aparadh

"ঠেকাও অপরাধ, বাঁচাও দেশ"

জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের মাঝে গাড়ি বহর: নাটোরে ছাত্রদল নেতার শোডাউনজ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের মাঝে গাড়ি বহর: নাটোরে ছাত্রদল নেতার শোডাউন

শীর্ষ ডেস্কঃ

জ্বালানি সংকটের মধ্যে নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদলের এক নেতার অর্ধশতাধিক গাড়ি বহর নিয়ে শোডাউন করার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় দৈনিক দৈনিক ইত্তেফাক-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার ও সাধারণ মানুষকে সংযমী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, তখন এমন বড় আকারের গাড়ি বহর নিয়ে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল ২০২৬ বিকেলে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা এলাকায় এই শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রদলের গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামানিকের নেতৃত্বে প্রায় ৫০টি হাইয়েস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে একটি বড় গাড়ি বহর বের করা হয়। শোডাউনটি গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে চাঁচকৈড় বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা জানান দেওয়া এবং রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা। স্থানীয়ভাবে এটি একটি শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখা হয়, যেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন এবং গাড়ির বহরের মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেন।

তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এত বড় গাড়ি বহর ব্যবহারকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেছেন। নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর স্থানীয় এক নেতা এই ঘটনাকে “কাণ্ডজ্ঞানহীন” বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মাসুদ রানা প্রামানিক নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, গাড়িগুলো আগে থেকেই ভাড়া করা ছিল এবং ঈদের আগেই এই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ব্যবহৃত অনেক গাড়িই সিএনজি বা এলপিজি চালিত, ফলে জ্বালানি সংকটের ওপর এর প্রভাব তুলনামূলক কম। তবুও তার এই ব্যাখ্যা সমালোচনার মাত্রা কমাতে পারেনি।

এদিকে দলীয় পর্যায় থেকেও বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের এক নেতা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এত সংখ্যক গাড়ি ব্যবহার অনুচিত এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানানো হবে। প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংযম ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Verified by MonsterInsights