
স্টাফ রিপোর্টার -
ঢাকার হাতিরঝিল এলাকায় এনসিপি-সংযুক্ত এক কর্মীর (রিপন) ওপর তার শ্বশুর, মামাসহ স্থানীয় আওয়ামী প্রভাবশালীদের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশি অসহযোগিতার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট (শনিবার) দুপুরের খাবারের পর বাসায় বিশ্রাম নেওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় তার স্ত্রী কন্যাসহ শ্বশুর মো. জসিম ও মামা মো. রাসেলের (উরফে গনি) কাছে চলে যান।ভুক্তভোগী রিপনের দাবি অনুযায়ী, তার শ্বশুর মোঃ জসিম—যিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত—মামা রাসেলসহ আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিপনের স্ত্রী রাহিমা বেগমকে ব্যবহার করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। একইসঙ্গে তারা রিপনের মাকেও কল দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আটকে রাখে।পরবর্তীতে মোঃ জসিম, আলমগীর (আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত), আলাউদ্দিন, মাইনুদ্দিনসহ আরও কয়েকজন রিপনের বাসায় ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার ফলে রিপনের বাম চোখ গুরুতরভাবে আহত হয়, ডান হাত ভেঙে যায় এবং গলা ও মাথায় রক্ত জমাট বাঁধে।
ভুক্তভোগী বলেন, কেয়ারটেকারের স্ত্রীর উপস্থিত বুদ্ধিতে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। পরে তিনি হাতিরঝিল থানার ওসিকে ফোন করলে এএসআই জাহিদুল এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং আঘাতের জন্য ব্যবহৃত রডটি উদ্ধার করেন। তবে সেটি থানায় জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে তাকে বারবার অসহযোগিতার শিকার হতে হয়। বরং তার স্ত্রীর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, ‘এএসআই জাহিদুল আমাকে জানিয়েছেন, তারা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আমাকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ওসি রাজুসহ থানাকে তারা ম্যানেজ করেছে।’তিনি আরও জানান, বারবার তথ্য দেওয়ার পরও ১ নম্বর আসামি মো. জসিম সহ কাউকেই হাতিরঝিল থানা গ্রেপ্তার করেনি।
পরবর্তীতে ১ নম্বর আসামি ছাড়া অন্য সকল আসামি কোর্টে গেলে, হাতিরঝিল থানার যোগসাজশে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রজু করার সুযোগে তারা সহজেই জামিন পায়।তবে বাদী নিজে ও তার প্রমাণ স্বশরীরে ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থাপন করলে, আদালতের নির্দেশে ১ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে, ৮ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় রিপন কোর্টে হাজির হলে তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়। এরই সুযোগে রিপনের জমা দেওয়া সব প্রমাণ সরিয়ে ফেলা হয় এবং ১ নম্বর আসামিকে জামিন করিয়ে নেওয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাদী পুনরায় ১ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে একটি পিটিশন দায়ের করেন। শুনানিতে আদালত নির্দেশ দেন, পুরো ঘটনার ফিরিস্তি আকারে প্রাসঙ্গিক ডকুমেন্টগুলো নতুন করে জমা দিতে। বাদী তাৎক্ষণিকভাবে ডকুমেন্টগুলো জমা দিলে আদালত সেগুলো পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখেন।
ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী তেজগাঁও ডিসি অফিসে গিয়ে এডিসি এর কাছে অভিযোগ করেন ও এএসআই জাহিদুলের অডিও রেকর্ডিং হস্তান্তর করেন। এডিসি এসআই জাহিদুলকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন বলে তিনি জানান। তবে পরে তিনি জানতে পারেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্তও এএসআই জাহিদুলকে অন্য থানায় বদলি করে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলার পরও নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১টা ৫৮ মিনিটে অজ্ঞাত নম্বর থেকে একটি এসএমএসে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়, যেখানে লেখা থাকে “২৪ঘণ্টা সময় দিলাম, মামলা উঠাবি তাড়াতাড়ি, এলাকা ছেড়ে পালাবি নয়ত একটা বুলেট খরচ হবে আমার।”
ভুক্তভোগী রিপন জানান, হামলার ঘটনায় মামলা চলমান থাকলেও আসামিদের পক্ষে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক ব্যক্তি জড়িত আছেন, যিনি গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। এর ফলে রিপন ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বরং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় পাঁচ দিন জেল খাটতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন।
উপরোক্ত সম্পন্ন ঘটনার সাথে এবং সকল লেখার সাথে সংযুক্ত প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে তার পাশাপাশি এএসআই জাহিদুল এর হুমকি দেওয়ার প্রমাণ রয়েছে ।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/