
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬
ফুটবল বিশ্বে তাকে ডাকা হয় ‘দ্য অ্যাটমিক ফ্লি’ বা পারমাণবিক মাছি। কিন্তু সবুজ ঘাসের বুকে তার কীর্তিগুলো যেন মহাজাগতিক। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা যখন লিওনেল মেসি আকাশের দিকে উঁচিয়ে ধরলেন, তখন ফুটবল বোদ্ধারা একবাক্যে বলেছিলেন— ফুটবল খেলাটা এবার ‘সম্পূর্ণ’ হলো। তবে গল্পটা সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। ২০২৬ সালেও এসেও থামেনি তার পায়ের জাদু। প্রতিনিয়ত মাঠে তিনি যা করে দেখাচ্ছেন, তাতে ফুটবল পাড়ায় নতুন করে সেই পুরনো বিতর্কটাই চাঙ্গা হচ্ছে— মেসি কি আসলেই আমাদের মতো রক্ত-মাংসের মানুষ, নাকি অন্য কোনো গ্রহ থেকে আসা ভিনদেশী এলিয়েন!
ফুটবল ইতিহাসে ট্রফি জয়ের দিক থেকে লিওনেল মেসি এখন সবার শীর্ষে। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে তার ঝুলিতে রয়েছে রেকর্ড ৪৭টি শিরোপা।
শুধু ক্লাব ফুটবলই নয়, আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতেও তার অর্জন আকাশচুম্বী। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ, অলিম্পিকের স্বর্ণপদক, ফাইনালিসিমা এবং টানা দুটি কোপা আমেরিকা জয়ের পর এসেছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। কাতার বিশ্বকাপে ৩৫ বছর বয়সে প্রায় একাই আর্জেন্টিনাকে এনে দেন তাদের ইতিহাসের তৃতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি। ব্যক্তিগত অর্জনেও তিনি অনন্য, রেকর্ড ৮ বার জিতেছেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মান ‘ব্যালন ডি’অর’।
মেসিকে ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ড্রিবলার বলা হয়। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বোকা বানানোর সময় তার শরীরের সূক্ষ্ম নড়াচড়া এবং নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এক অদ্ভুত শিল্প। তবে তিনি শুধু গোলদাতাই নন, বানিয়েছেন গোল করানোর রেকর্ডও। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট (গোল করানো) করার রেকর্ডটি তারই। বার্সেলোনা এবং ইন্টার মিয়ামির হয়ে তার গোল করার গড় প্রায় প্রতি ম্যাচে একটি করে!
মেসির খেলা দেখে ফুটবল দুনিয়ার কিংবদন্তিরা বারবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন:
"একসময় বলা হতো আমাকে থামাতে পিস্তল লাগবে। আজ মেসিকে থামাতে মেশিনগান দরকার।" — হ্রিস্টো স্টইকভ (ক্রোয়েশিয়ান কিংবদন্তি)
"মেসির সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার পর আমি তাকে ছুঁয়ে দেখেছিলাম। নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম, সে আমাদের মতো মানুষ কি না।" — জিয়ানলুইজি বুফন (ইতালিয়ান কিংবদন্তি)
"তার সঙ্গে বহুবার খেলেছি, তবুও সে যা করে তা আমি এখনও বুঝতে পারি না। সে মানুষ না, এলিয়েন। আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গর্ব হলো তার সঙ্গে খেলতে পারা।" — অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া (আর্জেন্টাইন তারকা)
"আমি যখন ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকাব, সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি হবে ছোট্ট মেসিকে বেড়ে উঠতে দেখা। সে অবসর নিলে পুরো ফুটবল বিশ্বেরই ১০ নম্বর জার্সিটা চিরতরে অবসর দেওয়া উচিত।" — রোনালদিনহো (ব্রাজিলিয়ান জাদুকর)
বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেসির পরিসংখ্যান চোখ কপালে তোলার মতো:
টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড ফুটবল ইতিহাসে বিরল (৬২ বছর ধরে কোনো দল তা পারেনি)। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসেও আর্জেন্টিনার আত্মবিশ্বাস বিন্দুমাত্র কমেনি। মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে দলটি এখনও অপ্রতিরোধ্য। গোলপোস্টে বিশ্বস্ত ‘দিবু’ মার্টিনেজ, রক্ষণে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং মাঝমাঠে এনজো ফার্নান্দেজ ও রদ্রিগো ডি পলদের নিয়ে দলটির ভারসাম্য চমৎকার।
অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ ও লওতারো মার্টিনেজের সঙ্গে আছেন স্বয়ং লিওনেল মেসি। এর পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, নিকো পাজ এবং মাত্র ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর মতো তরুণদের উত্থান আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের এক নতুন ও শক্তিশালী আশার আলো দেখাচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/