
শাহদাত হোসেন তালুকদার সাকু :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান –এর নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। আপাতত ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক মন্ত্রিসভা গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে থাকছেন ১২ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ১৮ জন প্রতিমন্ত্রী।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। তবে চূড়ান্ত তালিকা এখনো গোপন রাখা হয়েছে, যা শুধুমাত্র হবু প্রধানমন্ত্রীর কাছেই সংরক্ষিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এবার মন্ত্রিসভা গঠনে প্রাধান্য পাচ্ছে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারেক রহমান। ফলে অনেক প্রবীণ ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মন্ত্রিসভায় না-ও থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সম্ভাব্য তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন , , এবং । তবে মির্জা ফখরুল মন্ত্রিত্বের চেয়ে সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী—এমন আলোচনা দলীয় মহলে শোনা যাচ্ছে।
অর্থ, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে , এবং –এর মতো অভিজ্ঞ মুখ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তত চারজন বিশেষজ্ঞকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভাব্য নামের আলোচনায় আছেন তরুণ মুখ ও ।
যুগপৎ আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা শরিক দলগুলোর নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এ ক্ষেত্রে , এবং –এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
নতুন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে সংসদকে জবাবদিহিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। তারেক রহমান ইতিপূর্বে দলীয় বৈঠকে জানিয়েছেন, মন্ত্রীরা সরাসরি সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। এজন্য সংসদ উপনেতা হিসেবে অভিজ্ঞ কাউকে দায়িত্ব দিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি একক শক্তিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তবে জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর প্রশাসন গঠনের বার্তাই দিতে চায় দলটি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভা দেশের সামনে থাকা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে ভূমিকা রাখে—সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
সুত্র: ইত্তেফাক

প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/