
সোহেল রানা :
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এখনো এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। হাম প্রধানত বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি প্যারা-মিক্সোভাইরাসের মাধ্যমে ঘটে থাকে। হাম ছড়ানোর সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যম - যখন আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলেন— কাশেন বা হাঁচি দেন, তখন ক্ষুদ্র জলকণা বা অ্যারোসল বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। সে কারণে দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। হঠাৎ করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে ১০ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আর মার্চ মাসেই কমপক্ষে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া, কৃমিনাশক সেবনে অনীহা এবং অপুষ্টিই এ সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
হামের কারণ ও সংক্রমণ:
হাম রোগের কারণ Measles virus। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাতাসের মাধ্যমেও এটি সহজে সংক্রমিত হতে পারে, ফলে একটি আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অনেক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
লক্ষণসমূহ:
হাম রোগের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
জ্বর,নাক দিয়ে পানি পড়া,চোখ লাল হওয়া
শুকনো কাশি,মুখের ভেতরে সাদা দাগ (Koplik spots),শরীরে লালচে ফুসকুড়ি।
এই লক্ষণগুলো সাধারণত ধাপে ধাপে প্রকাশ পায় এবং কয়েকদিনের মধ্যে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঝুঁকি ও জটিলতা:
হাম শুধু সাধারণ একটি রোগ নয়, এটি গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যেমন—
নিউমোনিয়া,ডায়রিয়া,কানের সংক্রমণ
মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস),বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রতিরোধের উপায়:
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। শিশুদের নির্দিষ্ট বয়সে MMR (Measles, Mumps, Rubella) টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা,
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা,
সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশে সরকার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যার ফলে হামের প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। তবে কিছু অঞ্চলে এখনো টিকা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে, যা নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষণ প্রকাশের আগেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে এবং চার দিন পর পর্যন্ত রোগটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে হয়ে থাকে।
তারা আরও বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে টিকাদানের হার কম, সেখানে এ রোগ থেকে নিউমোনিয়া, কানের সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। আর তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সচেতনতার অভাব ও টিকা না নেওয়ার কারণে এটি এখনো মহামারীর রূপ নিতে পারে। তাই সময়মতো টিকা গ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
সতর্কতা : হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। হামের কারণে নিউমোনিয়া, কানে ইনফেকশন বা মস্তিষ্কের প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো গুরুতর জটিলতা হতে পারে। আপনার বা আপনার শিশুর মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং টিকা দান নিশ্চিত করুন।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/