
বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ৪৯তম সাধারণ সভা আয়োজনকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—ব্যাংকটির আইনগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো কী এবং এর কার্যক্রমের বৈধতা কোন কর্তৃপক্ষের অধীনে নিশ্চিত করা হয়?
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস হলরুমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ৪৯তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ব্যাংকটিকে দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
তবে এ আয়োজনের প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ওপর কোন আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রযোজ্য এবং এর কার্যক্রমের সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রক কাঠামোর পার্থক্য কী। বিশেষ করে ব্যাংকটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক না হলে এর ঋণ কার্যক্রম, আমানত গ্রহণ, আর্থিক লেনদেন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে জনসমক্ষে আরও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সভায় মন্ত্রী সমবায় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ঋণ পরিশোধে দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে সমবায় ব্যাংকের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম, পরিচালনা কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ব্যাংকটির আইনগত ভিত্তি, লাইসেন্সিং ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা।
প্রশ্ন উঠছে, একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সাধারণ সভায় সরকারের মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রমের বৈধতার নিশ্চয়তা দেয়? নাকি এর বৈধতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনই মূল বিষয়?
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে সমবায় ব্যাংকের আইনগত অবস্থান ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নগুলোর অবসান হতে পারে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/