
লেখক: শেখ ফরিদ উদ্দিন
একটি দেশের সুশাসন ও কাঠামোগত উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হলো তার দক্ষ আমলাতন্ত্র। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র মো: এহছানুল হক। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি নিজেকে একজন সফল, দূরদর্শী ও অনুকরণীয় জন প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
মো: এহছানুল হক ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইউবপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামীণ ও পারিবারিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই ব্যক্তিত্ব পরবর্তী সময়ে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থার অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বে সমাদৃত হন।
একজন সফল প্রশাসকের জন্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অপরিহার্য, যার প্রতিফলন দেখা যায় মো: এহছানুল হকের শিক্ষা জীবনে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন:
জ্ঞানার্জনের তৃষ্ণা থেকে পরবর্তীতে তিনি আইন বিষয়েও স্নাতক (এলএলবি) এবং স্নাতকোত্তর (এলএলএম) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও, তিনি দেশে ও বিদেশে আইন, প্রশাসন, নীতিনির্ধারণ, ব্যাংকিং এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ওপর উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, যা তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতাকে আরও শাণিত করেছে।
বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮২ ব্যাচের এই সদস্য মাঠ প্রশাসনের তৃণমূল পর্যায় থেকে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে তিনি মাঠ প্রশাসনের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন:
মাঠ পর্যায়ের এই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে জনগণের সমস্যা ও প্রশাসনিক জটিলতাগুলো খুব কাছ থেকে বুঝতে এবং তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সাহায্য করেছে।
মাঠ প্রশাসনের সফলতার পর তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং শীর্ষ সংস্থায় তাঁর মেধার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন:
অতিরিক্ত সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়ার পরও তাঁর দক্ষতা ও সততার কারণে রাষ্ট্র পুনরায় তাঁর সেবা গ্রহণ করে। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে প্রশাসনে ফিরিয়ে আনে।
প্রশাসনে ফেরার পর তাঁর ওপর রাষ্ট্রের আস্থা ছিল অনন্য:
১. সংকটে নির্ভরযোগ্যতা: ২০২৪ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক চরম প্রশাসনিক ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্র তাঁর ওপর আস্থা রেখে ফিরিয়ে আনে। এটি প্রমাণ করে যে, সংকটকালীন সময়ে দেশ পরিচালনার জন্য তাঁর মতো অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ জন প্রশাসকের বিকল্প নেই।
২. বহুমুখিতা (Versatility): অর্থ, আইন, পর্যটন, পরিবহন, রেলপথ থেকে শুরু করে জনপ্রশাসন—সব ক্ষেত্রেই তিনি সাফল্যের সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এটি একজন "জেনারেলিস্ট" আমলার চরম উৎকর্ষতার প্রতীক।
৩. প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: ২০১৩ সালের বেতন ও চাকরি কমিশনের সদস্য সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল পদে তাঁর ভূমিকা দেশের সামগ্রিক আমলাতান্ত্রিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
মো: এহছানুল হকের কর্মজীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সততা, মেধা, এবং দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতার এক অনন্য সমন্বয় ঘটেছে তাঁর চরিত্রে। তৃণমূলের ম্যাজিস্ট্রেট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের জনপ্রশাসনের সর্বোচ্চ পদ অলঙ্কৃত করার এই যাত্রা তরুণ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাদের জন্য এক মহান অনুপ্রেরণা। তিনি কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তাই নন, বরং একজন সফল এবং আদর্শ জন প্রশাসক হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/