
সোহেল রানা :
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে সমাপ্ত এনএটিপি প্রকল্পের ১২৮ জন ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রকল্প শেষ হওয়ার পর চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেন। এ প্রসঙ্গে তৎকালীন মহাপরিচালক ডা: মনজুর মোহাম্মদ শাহাজাদা একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রতিবেদনে ১২৮ জনকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় এবং সে অনুযায়ী মহাপরিচালক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করেন।
কিন্তু মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় ভুক্তভোগীরা হাইকোর্টে রিট (নং-৭২০০/২৩) দায়ের করেন। তদপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট গত ২৯/৫/২৪ তারিখে রুল জারি করে জানতে চান কেন তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হবে না। একই সঙ্গে সমমানের ১২৮টি পদ (৫৪টি ক্যাশিয়ার ও ৭৪টি অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক) শূন্য রাখার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে অধিদপ্তর রুলের জবাবসহ আদেশ ভ্যাকেটের আবেদন করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত ১৬/১/২৫ তারিখে আদেশটি বাতিল করে এবং আবেদনকারীদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উক্ত পদে আবেদন করার সুযোগ দিয়ে রিট নিষ্পত্তি করে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারীরা হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের মাননীয় চেম্বার জজ আদালতে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (সিপি মামলা নং-১৫০৬/২৫) দায়ের করেন। তবে চেম্বার জজ কোনো স্টে না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য মামলাটি আপিল বিভাগের ১ নম্বর কোর্টে প্রেরণ করেন। নির্ধারিত ২৫/৬/২৫ তারিখে শুনানির সিরিয়াল না আসায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
পরবর্তীতে মামলাটি মাননীয় বিচারপতি মোহাম্মদ আশরাফুল হকের নেতৃত্বাধীন ২ নম্বর কোর্টে স্থানান্তরিত হয়। গত ১/৯/২৫ তারিখে শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত সিপি মামলা গ্রহণ করেন এবং আবেদন অনুযায়ী ১২৮টি পদ শূন্য রাখার নির্দেশ দেন।
রায়প্রাপ্ত আবেদনকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে সরকার কর্তৃক নিয়োজিত আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। কিন্তু এরপরও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ৫৪টি ক্যাশিয়ারসহ অফিস সহকারী পদের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে এবং নিয়োগপত্র প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) ডা: তারেক মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার সাহস দেখাচ্ছেন। ফলে মহাপরিচালকসহ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তারা আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মহাপরিচালকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জানা গেছে, তিনি সরকারি কাজে বিদেশে অবস্থান করছেন। নিয়োগ কমিটির সভাপতি ডা: ভযেজার এবং সদস্য সচিব ডা: তারেককে এসএমএস পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের সচিব জানিয়েছেন, বিষয়টি জেনে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/