
এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সাম্প্রতিক এক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মির্জা আব্বাসের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ১৯৭৮ সাল থেকে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম সক্রিয় সংগঠক। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একই বছর তিনি অবিভক্ত ঢাকা সিটির মেয়র হিসেবেও নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সমালোচনার ঊর্ধ্বে কেউ নন—এ কথা স্বীকার করলেও বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা আব্বাসকে ‘রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি’তে জড়ানোর অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অতীতে তিনি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধেও গণতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়া শরিফ ওসমান হাদীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে রাজনৈতিক মহলে দোয়া ও সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাস্তব ভোটের অঙ্কে বিশ্লেষণ করে অনেকেই বলছেন, ঢাকা-৮ আসনে হাদীর রাজনৈতিক প্রভাব মির্জা আব্বাসের ভোটব্যাংকের পাঁচ শতাংশের বেশি প্রভাব ফেলবে—এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই।
বরং যেসব গোষ্ঠী হাদীর উত্থানে নিজেদের ভোট ক্ষতির আশঙ্কা করছে, তারাই এ ঘটনাকে ব্যবহার করে মির্জা আব্বাসকে টার্গেট করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাদী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পরিকল্পিতভাবে মির্জা আব্বাসকে দায়ী করে ফটোকার্ড ও প্রচারসামগ্রী তৈরি করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রমাণহীন দায় চাপানোর এই রাজনীতি বিএনপির ভোট কেটে নিজেদের ভোট বাড়ানোর কৌশল মাত্র। এটিই বর্তমানে ওই গোষ্ঠীর প্রধান রাজনৈতিক স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মির্জা আব্বাস কোনো ‘হঠকারী’ রাজনীতিবিদ নন বলেও মন্তব্য করেন পর্যবেক্ষকরা। প্রতিটি সহিংস ঘটনার সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করে যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তারা আরও সতর্ক করে বলেন, এই দায় চাপানোর রাজনীতির আড়ালেই একটি বৃহত্তর অস্থিরতা তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হাদী হয়তো সেই ধারাবাহিকতার প্রথম বড় শিকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার যে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হবে—সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/