
সোহেল রানা:
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-তে চলছে অঘোষিত ‘চেয়ার যুদ্ধ’। ২০২৬ সালের শুরুতেই সংস্থাটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হতে যাচ্ছে। আর সেই শূন্য পদে বসার লড়াই এখন অফিসের করিডোর থেকে শুরু করে রাজধানীর অভিজাত রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত—যার মূল চালিকা শক্তি দক্ষতা নয়, বরং টাকার খেলা!
সূত্র জানায়, প্রকৌশল (সিভিল) বিভাগের বর্তমান চিফ ইঞ্জিনিয়ার অচিরেই অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) যাচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই পদটি শূন্য হওয়ার পরই শুরু হয়েছে ‘চেয়ার’ দখলের অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। নিয়ম অনুযায়ী, অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তারাই এই পদে নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু এখন আলোচনা হচ্ছে—যোগ্যতা নয়, আর্থিক সক্ষমতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগই হবে নিয়োগের মূল মাপকাঠি।
অন্যদিকে, মেকানিক্যাল (MME) বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ারও ডিসেম্বরেই অবসরে যাচ্ছেন। এ পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একাধিক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—সেই দুর্নীতির টাকাই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে নতুন নিয়োগের দৌড়ে ‘রেট’ বাড়াতে।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএ’র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট মনিটরিং ও ডিজাইন বিভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ফলে, একযোগে তিনটি প্রকৌশল বিভাগের নেতৃত্বে রদবদলের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র প্রকৌশলী বলেন,
“বিআইডব্লিউটিএ আজ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। সৎ ও যোগ্য প্রকৌশলীদের দিয়ে যদি এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন না হয়, তবে ভবিষ্যতের প্রকল্প ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও গভীর দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়বে।”
প্রশ্ন উঠেছে—নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ কি টাকার প্রভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, নাকি যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের হাতেই তুলে দেবে পরিবর্তনের হাল?
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/