
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাবা-মায়ের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকুক বা বিচ্ছিন্ন হোক, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব থেকে কোনো বাবা অব্যাহতি পেতে পারেন না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একটি সিভিল রিভিশন আবেদন খারিজ করে গত ২২ জুন বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে।
রায়ে আবেদনকারী শেখ নজরুল ইসলামকে গত ১০ বছরের বকেয়া দেনমোহর, সন্তানের ভরণপোষণসহ আদালত নির্ধারিত সব অর্থ আইন অনুযায়ী পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বতন্ত্র ও আইনগত অধিকার। বাবা-মায়ের বৈবাহিক সম্পর্কের অবস্থা বা সন্তান কার হেফাজতে রয়েছে—এসব কোনো বিষয়ই বাবার ভরণপোষণের দায়িত্বকে প্রভাবিত করে না। আইন অনুযায়ী সন্তানের আর্থিক দায়িত্ব বাবাকেই বহন করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর শেখ নজরুল ইসলামের সঙ্গে হালিমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য বিরোধ সৃষ্টি হলে হালিমা খাতুন বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাদের কন্যাসন্তান সায়রা আক্তারের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে ভরণপোষণ ও দেনমোহর না পাওয়ায় হালিমা খাতুন বাগেরহাট পারিবারিক আদালতে মামলা করেন।
মামলার শুনানিতে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি স্ত্রীকে নিয়মিত ভরণপোষণ দিয়েছেন এবং ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তালাক দিয়েছেন। তবে আদালত দেখতে পান, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকরের প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও তার প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে পারিবারিক আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে রায় দেন।
পরবর্তীতে জেলা জজ আদালত এবং পরে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখেন।
রায়ে আদালত বলেন, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদ, দেনমোহর, ভরণপোষণ, সন্তানের হেফাজত ও অভিভাবকত্বসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার পারিবারিক আদালতের। অন্য কোনো দেওয়ানি আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
আদালত আরও বলেন, মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭ ধারা অনুযায়ী লিখিত নোটিশসহ নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং তার প্রামাণ্য দলিল ছাড়া কোনো তালাক আইনগতভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে না। শুধুমাত্র মৌখিকভাবে তালাকের দাবি করে স্ত্রী বা সন্তানের আইনগত অধিকার খর্ব করা যাবে না।
এছাড়া কোনো নতুন ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করলেই পূর্বে দেওয়া আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারী যদি জারি আদালতে নিজের প্রকৃত আর্থিক সংকটের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে আদালত প্রয়োজন বিবেচনায় কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ দিতে পারবেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, এই রায়ের ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া তালাকের অজুহাতে কোনো বাবা সন্তানের ভরণপোষণের দায় এড়াতে পারবেন না। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের বকেয়া ভরণপোষণ ও দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রেও এ রায় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/