
শেখ ফরিদ উদ্দিন
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ওয়েব পোর্টালে আপলোড করার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্ম কর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার বিবরনে প্রকাশ,প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ এর ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রকাশের পূর্বেই ওয়েব পোর্টালে আপলোড করার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ না করায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেইন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত মোঃ মেহতাব কায়েসকে ঘটনার দিন ৯ জুলাই থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর অনুচ্ছেদ ১২(১) অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে তাকে ০৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ হতে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাখাওয়াত হোসেনের স্বাক্ষরযুক্ত এই আদেশে আরও জানানো হয়, সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন। উল্লেখ্য যে, গতকাল ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফল আংশিকভাবে ওয়েব পোর্টালে আপলোড ও ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এই শৃঙ্খলাভঙ্গের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। একই সাথে ঘটনাটি তদন্তে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) অধিদপ্তরের পৃথক দুটি কার্যালয় আদেশ ও পত্র থেকে এই তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট চিঠির তথ্য অনুযায়ী, গত ০৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের সুবিধার্থে ওয়েব পোর্টালে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মেহতাব কায়েসকে। কর্তৃপক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল যে, চূড়ান্ত ঘোষণার পূর্বে কোনোভাবেই যেন এই ফলাফল সার্ভারে আপলোড করা না হয়।
কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে ০৯ জুলাই সকাল ১০:০০ ঘটিকায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকগুলোতে আপলোড করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা লিংকগুলো থেকে ফলাফল ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে দেন।
অধিদপ্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইএমটি) বিভাগের প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লাইভ সার্ভারে লিংক তৈরি এবং ফলাফল আপলোডের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নিরাপত্তা প্রটোকল একেবারেই মেনে চলা হয়নি বলে জানাযায়।
যেহেতু অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মেহতাব কায়েস একজন ৯ম গ্রেডের গেজেটেড কর্মকর্তা, তাই তাঁর এই দায়িত্বহীনতা ও বিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত অনুরোধ জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
এদিকে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফল প্রকাশের এই গুরুতর ঘটনাটি তদন্ত করতে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে অধিদপ্তর। পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুব আইরীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মোঃ মিরাজুল ইসলাম উকিল, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন)কে আহ্বায়ক,
মোঃ জিয়াউল কবির সুমন, শিক্ষা অফিসার (উপবৃত্তি বিভাগ)কে সদস্য এবং
রোকসানা হায়দার, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-২), কে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
অফিসিয়াল প্রটোকল ভেঙে পরীক্ষার সংবেদনশীল ফলাফল এভাবে আগাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ আইটি নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/