
শেখ ফরিদ উদ্দিন:
সারা দেশের ৬৫,৫০২ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত ১০ম গ্রেড এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদার ফিক্সেশন ‘আইবাস++’ (iBAS++) সিস্টেমে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে লবিং ও কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছে সম্মিলিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি। দাবি আদায়ের এই মহাসংগ্রামে সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে এবার এক হাই-প্রোফাইল লবিংয়ে নেমেছেন শিক্ষক নেতারা।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৬ জুন) সম্মিলিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম শীর্ষ সদস্য, সাবেক সফল মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গুলশানের বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ এই সাক্ষাৎকার চলাকালে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য এবং আইনি অধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তারা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে এই যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবিটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের বিশেষ দৃষ্টিগোচর করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। একই সাথে বিষয়টি যেন আসন্ন জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, সেই ব্যাপারে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও জোর সহযোগিতা কামনা করেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।
সাক্ষাৎকার শেষে সমিতির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন—
"১০ম গ্রেড ও গেজেটেড পদমর্যাদা আইবাস++ সিস্টেমে যুক্ত হওয়া কোনো অনুকম্পা নয়, এটি শিক্ষকদের আইনি অধিকার। এই দাবিটি চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ৬৫,৫০২ জন প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বঞ্চনার অবসান ঘটবে। এর ফলে শিক্ষকরা নতুন উদ্যোমে ও সততার সাথে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে নিজেদের উজাড় করে দিতে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন।"
শিক্ষকদের এই যৌক্তিক দাবি ও নথিপত্রগুলো গভীর মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং দেখেন সাবেক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি শিক্ষকদের এই ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার স্পষ্ট আশ্বাস দেন।
শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ শনিবার (২৭ জুন) দাবির সপক্ষে প্রস্তুতকৃত যাবতীয় আইনগত নথিপত্র, আদালতের নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় ফাইলের একটি পূর্ণাঙ্গ সেট তাঁর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
সাক্ষাৎকার শেষে সম্মিলিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই ঐতিহাসিক অধিকার আদায়ের চূড়ান্ত মুহূর্তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার দেশের সকল প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকের কাছে দোয়া, সংহতি প্রকাশ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/