
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। দীর্ঘ ৬ মাস পর মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে অবিশ্বাস্য ৪৩ বস্তা টাকা! বিপুল পরিমাণ এই অর্থ গণনার জন্য পুরো মসজিদ এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। সাধারণত প্রতি ৩ মাস পর পর এই বাক্সগুলো খোলা হলেও, এবার পবিত্র রমজান মাস এবং জাতীয় নির্বাচনের কারণে দীর্ঘ ৬ মাস পর এগুলো খোলা হলো।
বিপুল পরিমাণ এই টাকা গণনার বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন পাঁচ শতাধিক মানুষের একটি দল। যার মধ্যে রয়েছে জামিয়া ইমদাদিয়া মাদরাসার ৩০০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদ মাদরাসার ১০৬ জন ছাত্র, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা, মসজিদের ৩৫ জন স্টাফ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ১৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কোনো ধরনের অনিয়ম বা চুরির ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো গণনা প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এবং কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
টাকা গণনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা অপরাধমূলক চক্রের তৎপরতা নস্যাৎ করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে রয়েছেন জেলা প্রশাসনের ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৪০ জন পুলিশ সদস্য, ৮ জন র্যাব সদস্য এবং ২০ জন আনসার সদস্য। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ উপকমিটি পুরো কার্যক্রমের তদারকি করছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যা রূপালী ব্যাংকে মসজিদের অ্যাকাউন্টে জমা আছে। এছাড়াও সে সময় প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রা সিলগালা অবস্থায় জেলা ট্রেজারিতে (সরকারি নিরাপদ হেফাজত) জমা রাখা হয়েছে।
ইসি ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাগলা মসজিদের তহবিলে সর্বমোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।
কোথায় যায় এই টাকা? প্রশাসন জানিয়েছে, এই বিশাল তহবিলের লভ্যাংশ থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসার জন্য অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া কমপ্লেক্সের মাদরাসার ১৩০ জন এতিম ছাত্রের যাবতীয় খরচ, ৩৫ জন কর্মচারী ও ১০ জন আনসার সদস্যের বেতন এবং মসজিদের নানাবিধ উন্নয়নমূলক খাতে এই টাকা ব্যয় করা হয়। বর্তমানে এই তহবিলের টাকা দিয়ে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা এবং জমি ক্রয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে টাকা গণনার কাজ চলছিলো। দিন শেষে জানা যাবে এবার ৪৩ বস্তায় মোট কত কোটি টাকা জমা হলো।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/