
সোহেল রানা :
স্বৈরশাসকের দোসর সাবেক প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ও দুর্নীতিবাজ এপিএস আ ন ম আহমদুল হক বাসারের আস্তাভাজন, ক্যাশিয়ার মাইদুল ইসলাম এখনো বহাল তবিয়তে!নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে। মাইদুল ইসলাম নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে সিন্ডিকেট পরিচালনা করে নৌ - সার্ভেয়ার কয়েকজন মিলে ( নকশা ও সার্ভে) শাখা। অভিযোগ আছে তিনি নির্দিষ্ট ডিজাইন ফার্মকে অনৈতিক সুবিধা প্রদান করেন আর হাতিয়ে নেন লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা আর বিনিময়ে ঐসব ফার্ম থেকে মাসিক আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন। সরকারি চাকরিজীবী হয়েও তিনি একটি বেসরকারি ডিজাইন ফার্মের অংশীদার হিসেবে যুক্ত আছেন এবং তাদের নৌযান নকশা ও সার্ভে দ্রুত অনুমোদন করিয়ে দেন এবং মাসোয়ারা নেন।
বাংলাদেশের নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে ওঠেছেন দুর্নীতির প্রতীক।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরে নকশা ও সার্ভে শাখার ঢাকায় কর্মরত পরিদর্শক মো: মাইদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়ঙ্কর সব অভিযোগ। ঘুষের বিনিময়ে তিনি অনিরাপদ লঞ্চ ও জাহাজকে ফিটনেস সনদ দিচ্ছেন, তদন্ত রিপোর্ট বিকৃত করছেন, আর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ঘুষ ছাড়া ফিটনেস সনদ নয়!! জাহাজ মালিকদের অভিযোগ—“ঢাকায় ফিটনেস নিতে গেলে মাইদুল স্যারের পকেট ভরে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে থাকে মাসের পর মাস।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে ছোট লঞ্চের জন্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেয় মোঃ মাইদুল ইসলাম পরিদর্শক (ঢাকা)অফিস। মাঝারি আকারের লঞ্চে এই অঙ্ক ২ লাখ টাকা করে দিতে হয়।সমুদ্রগামী জাহাজের ক্ষেত্রে ঘুষ দিতে হয় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত।অভিযোগকারী ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, এই টাকা সরাসরি অফিসে নয়,বরং নির্দিষ্ট রেস্টুরেন্ট, ব্যক্তিগত অফিস বা ঘুষের পরিমাণ অল্প হলে তা তিনি বিকাশ, নগদ, রকেট সহ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আদায় করেন।
মাইদুল ইসলামের সনদ দেওয়া অনেক লঞ্চেই নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই। লাইফজ্যাকেট, লাইফবয়া, ফায়ার সেফটি—কিছুই নেই, তবু কাগজে সব “ঠিকঠাক” দেখান তিনি।
বড় দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠিত হলে সেখানে দায়ীদের নাম আড়াল করা হয়। সূত্র বলছে, তদন্ত রিপোর্ট “নরম” করার জন্যও লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়।অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন—“প্রভাবশালী মালিকরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তদন্ত রিপোর্ট নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেন। মাইদুল ইসলাম এই প্রক্রিয়ার অন্যতম মূল খেলোয়াড়।”
গত ১০ বছরে ৩৫০টিরও বেশি নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রাণ হারিয়েছে ৪ হাজারের বেশি যাত্রী।
ঢাকার অন্তত ৩০% ফিটনেস সনদ অনিয়মের মাধ্যমে ইস্যু হয়েছে।এসব সনদের একটি বড় অংশে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর জাল করে মাইদুল ইসলাম হাজার থেকে লক্ষ্য টাকা ঘুষ নেয়। চিফ ইঞ্জিনিয়ার এর স্বাক্ষর স্ক্যান করে প্রতারণা করেন এই মাইদুল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে অধিদপ্তরের চীফ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে তার বিশেষ সখ্যতার কারণে একাধিকবার বদলি আদেশ জারি হলেও তা কার্যকর হয়নি। চীফ ইঞ্জিনিয়ারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্যই মাইদুল ইসলামকে একই জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে বহাল রাখা হয়েছে। এমনকি তিনি চীফ ইঞ্জিনিয়ারের নাম ব্যবহার করে অন্যান্য কর্মকর্তা ও নৌযান মালিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। দেখার কেউ নেই ! ফলে নকশা ও সার্ভে শাখায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা পুরো অধিদপ্তরের সেবামূলক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। এতে করে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নৌ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মাহবুব আলম বলেন—
“পরিদর্শকরা যদি ঘুষে অন্ধ হয়ে পড়েন, তাহলে জনগণের জীবন রক্ষার শেষ ভরসাটুকুও নষ্ট হয়ে যায়। মাইদুল ইসলামের মতো কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীপথে নিরাপত্তা ফিরবে না।”পরিদর্শক মো: মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ আর গুঞ্জন নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে জনসচেতন সত্যে। ঘুষ, অনিয়ম ও গাফিলতির মাধ্যমে তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বেই ব্যর্থ হননি, বরং হাজারো যাত্রীর জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। ভুক্তভোগী আরো জানান যদি নৌপরিবহন অধিদপ্তর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তাহলে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়র করবেন।
পরিদর্শক মো: মাইদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলে এসব অভিযোগ মিথ্যা ভুয়া ও বানোয়াট। তিনি আরও দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
নিজেকে একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।সব অভিযোগের সঠিক তদন্ত হলে সত্য প্রকাশ পাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এখন প্রশ্ন—কবে এই দুর্নীতি রোধে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/