
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১ মার্চ ২০২৬, রবিবার, নারায়ণগঞ্জ-এর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালচক্রের তৎপরতার অভিযোগে দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।অফিস সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি একই পরিবারের চারজনের পাসপোর্ট সংক্রান্ত কাজের জন্য অফিসে আসেন। প্রথমে তিনি তার বোনের পাসপোর্ট করার কথা বলেন, পরে ভাইয়ের ছেলের পাসপোর্টের বিষয় উল্লেখ করেন। এ সময় তাকে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে যাতায়াত করতে দেখা যায়, যা উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর তার আগমন ও আচরণে সন্দেহ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাসপোর্টপ্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, পাসপোর্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাসে তারা মোহাম্মদ ইউসুফকে ২৭ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় দেন। পরে জানা যায়, তিনি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকায় বসবাসকারী একজন সাংবাদিক। তিনি নিজেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দাবি করে চারটি আলাদা প্রতিষ্ঠানের নামসংবলিত ভিজিটিং কার্ড প্রদর্শন করেন। এর মধ্যে ‘মুক্ত খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভিজিটিং কার্ড ও আইডি কার্ডও ছিল।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হলে মোহাম্মদ ইউসুফ লিখিত মুচলেকা দেন। মুচলেকায় তিনি ভবিষ্যতে আর কোনো ধরনের দালালি কার্যক্রমে যুক্ত হবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও একজন সাংবাদিক, হাতিম বাদশা, যিনি অভিযোগ অনুযায়ী ২৭ হাজার টাকা প্রদানকারী ব্যক্তিকে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে প্রশ্ন করছিলেন, তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তার আচরণে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি ‘দৈনিক ক্রাইম ডায়েরি’ নামের একটি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করতেন। এমনকি বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে এবং ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বিকাশ নম্বর পাঠিয়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাতিম বাদশাও নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং লিখিত মুচলেকা প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানায়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রোধে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের দালালদের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পাসপোর্টের আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/