
সাইফুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদক :
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়। বিএনপি চেয়ারম্যান ের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা আজ বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ করবে। রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দুই ধাপে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা শপথ নেবেন। প্রথমে বিএনপি ও তাদের জোটের এমপিরা, এরপর জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের সদস্যরা এবং সবশেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ-সদস্যদের শপথ পরিচালনা করবেন। জানা গেছে, এমপিরা সদস্য হিসেবে শপথের পাশাপাশি সংস্কার ইস্যুতে গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেবেন।
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার জানিয়েছেন, শুধু ডিএমপির পক্ষ থেকেই প্রায় দুই হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি, এসএসএফ ও পিজিআর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। সব প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মূল গেট বন্ধ রাখা হয়েছে।
সংসদ ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আসন বিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোও মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোড এলাকায় ৩৬টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের হতে পারে; এর মধ্যে ২৬-২৭ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ৯-১০ জন প্রতিমন্ত্রী থাকতে পারেন।
শপথের পর সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য জানান, বৈঠকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন।
নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রধানদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন । তিনি জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজনৈতিক সহনশীলতার নতুন বার্তা বহন করছে।
দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হলেও এবার প্রথমবারের মতো উন্মুক্ত স্থানে—জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়—এই আয়োজন হচ্ছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার অতিথির উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকছে। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশের পর দেখা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২ আসনে জয় পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭ আসন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন লাভ করেছে। সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে মোট ভোটের প্রায় ৪৯.৯৭ শতাংশ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট।
শপথ অনুষ্ঠান উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোডে যান চলাচল সীমিত থাকবে। ডিএমপি বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার পর আজকের এই শপথের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার ও নতুন সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা—নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে গণতন্ত্র, সংস্কার ও উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাবে লাল-সবুজের বাংলাদেশ।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/