
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কাজে স্বেচ্ছাসেবী বাছাই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি কর্মসূচিতে সহযোগিতার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের আওতাধীন ৩৯টি ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য প্রায় পাঁচ হাজার তরুণ-তরুণী আবেদন করেন। গত ২৭ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে প্রার্থী মূল্যায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মূল্যায়ন ও পরীক্ষার পর চূড়ান্ত তালিকা তৈরির সময় মেধাক্রম ও পরীক্ষার ফলাফলের পরিবর্তে অন্যভাবে প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। ১০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে সংশ্লিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, তালিকায় এমন কয়েকজনের নাম রয়েছে যারা আবেদনই করেননি কিংবা নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাদের মধ্যে গোপালগঞ্জের শেখ ইফতিয়ার, জেছন মণ্ডল, তাসনীম তামিম, কানিজ ফাতেমা মিমো ও সিয়াম হোসেনের নাম উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, এসব ব্যক্তির পরীক্ষার হাজিরা, মূল্যায়নপত্র বা নম্বরপত্র থাকার কথা নয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, ৩৯টি ওয়ার্ডে সুপারভাইজার হিসেবে ১০৬ জন এবং রিজার্ভে আরও ১১ জন নেওয়ার কথা। অভিযোগ রয়েছে, এর বিপরীতে সার্কেল অফিসারের পক্ষ থেকে ১১৬ জনের একটি তালিকা দেওয়া হয়, যার মধ্যে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে ১ হাজার ৫৯ জন এবং রিজার্ভে ১০৬ জন নেওয়ার কথা থাকলেও সার্কেল অফিসারের তালিকায় ৪৭৫ জনের নাম রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যেখানে মেধাবীদের বাছাই করার কথা, সেখানে আলাদা তালিকা তৈরির প্রয়োজন হলো কেন।
এদিকে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তেজগাঁও সার্কেলের কয়েকজন সমাজকর্মীর সঙ্গে সার্কেল অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের একাধিকবার বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি তাদের বদলি ও বিভিন্ন ধরনের শাস্তির ভয় দেখানোর অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের আরও একটি অংশে বলা হয়েছে, ৯ আগস্ট রাত ৯টার দিকে তেজগাঁও সার্কেল অফিসের সিএ পারভেজ হোসেন অনিক সমাজকর্মীদের ডেস্কটপ কম্পিউটারে বসে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মুনিম ফুয়াদ, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসমাইল আদনান, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের রাসেল মাহমুদসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—চূড়ান্ত তালিকা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় বাছাই করা, অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিটি গঠন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
ডেমরা থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মো. মনির হোসেন খান এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিজের ফেসবুক পোস্টেও মনির হোসেন তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ করেন। তার দাবি, সরকারি বিধিবিধান ও নিরপেক্ষতা অনুসরণ না করে প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এ ধরনের কার্যক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার ও স্বেচ্ছাসেবী বাছাই কমিটির আহ্বায়ক মো. তরিকুল ইসলাম এবং কমিটির সদস্য সচিব ও তেজগাঁও সার্কেলের সমাজসেবা অফিসার ইনসান আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/