
আব্দুল আজিজ কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের জগৎপুর উত্তর পাড়া জামে মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জমি দখল করে বিল্ডিং নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের দুই ছেলে ওমান প্রবাসী জুয়েল ও জয়নালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ বছর আগে ৩ শতাংশ জমির ওপর জগৎপুর উত্তর পাড়া জামে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে মসজিদের নামে আরও ১ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়। সম্প্রতি মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদটি ভেঙে বড় আকারে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে জমি পরিমাপ করে দেখা যায়, মসজিদের মোট ৪ শতাংশ জমির মধ্যে ১ শতাংশ জায়গা দখল করে বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির অভিযোগ, জুয়েল ও জয়নাল নামে দুই ভাই ওই জমির ওপর স্থায়ীভাবে বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার হলেও কোনো সমাধান হয়নি। ফলে নতুন মসজিদ নির্মাণকাজ শুরু করতে না পেরে আনা রড, সিমেন্ট, ইট ও বালু নষ্ট হচ্ছে। এতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়েও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী আব্দুল বারেক, সহ-সভাপতি শাহআলম সরকার, ক্যাশিয়ার আবুল কাশেম ও আয়ুব খান বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের দান করা জমির ওপর মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পরে জায়গা স্বল্পতার কারণে আরও ১ শতক জমি ক্রয় করা হয়। এখন সেই জমির ১ শতাংশ জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় মসজিদ সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি।” তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মসজিদের জায়গা দখল অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের বড় বোন রোজিনা জানান, বিল্ডিং নির্মাণের সময় আমার ভাইয়েরা মসজিদ কমিটি জ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জমি মাপজোক করে কাজ করা হয়েছিল। তখন মসজিদের ১ শতাংশ জমির বিষয়ে কেউ আপত্তি তোলেননি। এবং এ বিষয়ে আমরাও কিছু জানি না। পরে কাগজপত্র যাচাই করে জানা যায়, বিল্ডিং এর একটি অংশে মসজিদের ৫০ পয়েন্ট জায়গা পড়েছে।
তিনি বলেন, “আমার ভাইয়েরা প্রায় ৬০-৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। এটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। তবে এর বিনিময়ে মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী যে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রস্তুত। কিছু লোক ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে বিষয়টি জটিল করে তুলছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/