নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কলাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম সরকার, তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক নেতা তোফায়েল আহমেদ তপনসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আরও ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেন বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম মুন্সি। গত ৭ জুলাই রাতে তিনি তিতাস থানায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ জুলাই রাতে দক্ষিণ বলরামপুর নয়াবাজার এলাকায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক লাখ টাকার বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্তদের সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে এবং সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তবে মামলায় অভিযুক্তদের দাবি, তাদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি ও বিএনপির সাবেক নেতা তোফায়েল আহমেদ তপন বলেন, তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতেই তাকে একটি "সাজানো" মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
দ্বিতীয় আসামি কলাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম সরকার বলেন, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাকে মামলায় জড়িয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার এবং যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার কেউ বাদী নন। এসব বিষয়ই মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তৃতীয় আসামি তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া বলেন, চুরির মামলায় নিজের নাম দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তিনি তিতাসে যাননি। রাজনৈতিক জীবনে প্রতিপক্ষকে হয়রানির রাজনীতিতে তিনি কখনো বিশ্বাস করেননি বলেও মন্তব্য করেন।
এদিকে মামলার এজাহার ঘিরে স্থানীয় বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ মামলাটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে মনে করছেন, আবার কেউ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে পুলিশের তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/