
আব্দুল আজিজ, তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল ও তার জেরে হামলার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের জেরে মো. মোস্তাক হোসেন (৪৬) নামে এক ভুক্তভোগী তিতাস থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অপরদিকে, এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর দাবি করে এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন প্রতিপক্ষ মো. জহিরুল ইসলাম। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিতাস থানাধীন জোয়ারগোবিন্দপুর মৌজার সাবেক ৮১, ৮২ ও ৬৭ দাগের হালে ৩৮০ ও ৩৮১ দাগের অন্তর্ভুক্ত মোট ২৬ শতাংশ জায়গা নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। বাদী মো. মোস্তাক হোসেনের দাবি, এই জমিটি তাদের এবং তাদের ভাই মোতালেব হোসেন গংদের পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু প্রতিবেশী মো. জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে ওই জমি দখল করে ভোগ করছেন। এই জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে এবং বিষয়টি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে মামলা আকারে বিচারাধীন রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক ও আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূণ সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।
মোস্তাক হোসেনের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মে দুপুরে প্রতিপক্ষ মো. জহিরুল ইসলাম ও তার দলবল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে। তারা জোরপূর্বক মোস্তাক হোসেনদের পৈতৃক জায়গায় বাঁশের খুঁটি এবং বেড়া স্থাপন করে জমিটি স্থায়ীভাবে দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় মোস্তাক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে জহিরুল ইসলামের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর শুরু করে। হামলায় মোস্তাকের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে এলাকা ছাড়া করা এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তারা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে জমি দখল এবং হামলার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মো. জহিরুল ইসলাম। পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,
"আমি কারও জমি জোর করে দখল করতে যাইনি। এটি মূলত আমার বাবার খরিদকৃত (কেনা) সম্পত্তি এবং আমরা সুদীর্ঘকাল ধরে এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। এই জায়গা নিয়ে প্রতিপক্ষ মোতালেব ও মোস্তাক গং আদালতে মামলা করেছিলেন। কিন্তু আদালত আমাদের জমা দেওয়া সব বৈধ কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমার পক্ষেই রায় প্রদান করেছেন।"
জহিরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্প্রতি তিনি তার নিজস্ব জমির সীমানা পরিমাপ করে খুঁটি স্থাপন করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় প্রতিপক্ষরা কোনো আইন-কানুন না মেনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এই অবস্থায় তিনি নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে তিতাস থানায় একটি পাল্টা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে। তিতাস থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. আবুল বাসার এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন,
"জায়গা-জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গণ্ডগোল ও উত্তেজনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে উভয় পক্ষকেই শান্ত থাকার এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দুই পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে, তাই আমরা আইনগতভাবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশি নজরদারি রয়েছে এবং উভয় পক্ষকেই আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/