
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবিদ্ধ আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমনই ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। তার দাবি, হাসপাতালে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চিকিৎসকদের উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “গুলি করেও যেহেতু মরেনি, ইনজেকশন দিয়ে শেষ করে দেন।”
মঙ্গলবার (১৯ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এই সাক্ষ্য দেন তিনি। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার এর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল প্যানেলে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সাক্ষীর নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
সাক্ষী জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরা এলাকার মেরাদিয়া কাঁচাবাজারে ছাত্র-আন্দোলন চলাকালে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিজিবি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের একসঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে দেখেন। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, রক্ত আর আর্তনাদ।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি দেখে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পেছন থেকে একটি গুলি তার কোমরের নিচে লাগে। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়ও নিরাপদ ছিলেন না বলে দাবি করেন ওই সাক্ষী। তার ভাষ্য, পরদিন রাতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন লোক হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের ভয়ভীতি দেখায়। তারা আহতদের উদ্দেশ করে বলে, “এরা এখনো বেঁচে আছে কেন? ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলুন।” এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আর চিকিৎসা না দিয়ে বের করে দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সাক্ষী আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার পর তাকে কোনো চিকিৎসার কাগজপত্রও দেওয়া হয়নি। বাসায় ফেরার পরও হুমকি থামেনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরে এক নির্দলীয় ব্যক্তির সহায়তায় তিনি আত্মগোপনে থেকে নিজ খরচে ফরাজি হাসপাতাল এ চিকিৎসা নেন।
জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, গুলির ঘটনার জন্য বিজিবির রেদোয়ান ও রাফাত, পুলিশের রাশেদ এবং রামপুরা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর দায়ী। বর্তমানে শারীরিক অক্ষমতার কারণে তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না বলেও আদালতকে জানান।
এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতক রয়েছেন সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/