
চাঁদপুর প্রতিনিধি | দৈনিক শীর্ষ অপরাধ
প্রকাশিত: ২৭ মে, ২০২৬
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ বুধবার (২৭ মে) বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।
আজ সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের প্রধান জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নতুন পোশাক পরিধান করে ঈদগাহ মাঠে সমবেত হতে শুরু করেন। ছোট শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে নামাজ পরবর্তী বৃষ্টির কারণে উৎসবের আমেজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টায় ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। এরপর সকাল ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন দরবারের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।
সাদ্রা দরবার শরীফের ঈদ জামাত কমিটির সদস্য আহমেদ রেজা চৌধুরী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মুসল্লি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় ঈদগাহ ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল।
এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান। এছাড়া মুন্সীরহাট বাজারের পূর্ব পাশে টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল পৌনে ৯টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ পড়তে আসা সাচনমেঘ গ্রামের মুসল্লি জসিম বেপারী ও শাহাবুদ্দিন জানান, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই তারা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন। তবে এলাকার অনেকে সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপন করবেন বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, মতলব উত্তর উপজেলার দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ উপজেলায় এবার মোট ছয়টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইতিহাস ও পটভূমি:
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের তৎকালীন পীর মরহুম মাওলানা ইসহাক (রহ.) চন্দ্রপঞ্জিকা ও বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। সেই থেকে তাঁর অনুসারীরা এই নিয়ম মেনে উৎসব পালন করে আসছেন।
যেসব গ্রামে ঈদ হচ্ছে:
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সীরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর; মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার পাঁচানি, বাহেরচর পাঁচানি, সাড়ে পাঁচানি, দেওয়ানকান্দি, উত্তর নেদামদী, আংশিক লুতুরদী, আমিয়াপুর, এনায়েতনগর, মাথাভাঙা এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার বেশ কিছু অংশসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/