
মিরাজ সরদার :
কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের কয়েকটি দোকানে পানি, খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, ৫০০ মিলিলিটার বোতলজাত পানি সাধারণ বাজারে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের কিছু দোকানে একই ধরনের পানি প্রায় ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে পাসপোর্ট করতে আসা আবেদনকারী, তাঁদের স্বজন, রিকশাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষকে প্রয়োজনীয় পানি ও খাবার কিনতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।
পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক আবেদনকারীকে একাধিকবার অফিসে আসতে হয়। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করতে আসা মানুষের জন্য দীর্ঘ সময় অফিস এলাকায় অবস্থান করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে সেবাকেন্দ্রটির আশপাশে ন্যায্যমূল্যে পানি ও খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও এসব দোকান থেকে পানি বা খাবার কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও তদারকি প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তারা।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আনসার সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশ থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে।
সচেতন সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের দোকানগুলোতে পণ্যের মূল্যতালিকা ও নির্ধারিত মূল্য অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা নিয়মিত পরিদর্শন, অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রির অভিযোগ তদন্ত এবং সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
এছাড়া পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে বা আশপাশে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি সরকারি বা নিয়ন্ত্রিত ক্যান্টিন স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে বোতলজাত পানি ও খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির পাশাপাশি দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা করারও দাবি রয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, পাসপোর্ট সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/