
কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে ‘বড় হুজুর’ নামে পরিচিত শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (৩২) আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলাকালে পুলিশ ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকেও নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। আটককৃত মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশুর ভাষ্যমতে, গত ১২ জুলাই সকালে অন্য শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষায় অংশ নিতে যায়, তখন সে মাদ্রাসার কক্ষে ঘুমাচ্ছিল। সকাল ১১টার দিকে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার ওপর নির্যাতন চালান। শিশুটি চোখ খুললে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন— “মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।”
শিশুটির দাবি, এই কথা বলে শিক্ষক মোস্তাফিজুর গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে তার ওপর অব্যাহত নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি সহপাঠীদের নজরে এলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এবং জানাজানি হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখান অভিযুক্ত শিক্ষক। মারধরের ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর তা ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড় জমে গেলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ সালিশ ডাকার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, ফৌজদারি অপরাধ হলেও তারা আগে নিজেরা সমাধানের চেষ্টা করছিলেন এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতে বুধবার আরও বড় পরিসরে বসার কথা ছিল। বৈঠকে উপস্থিত থাকা মাদ্রাসার সহ-সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল করিমও সালিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।
তবে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিশু, তার বাবা এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিতে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/