
নিজস্ব প্রতিবেদক:
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরিতে বহাল থেকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বাতিল করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীকে চাকরি ছাড়তে হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা-সংক্রান্ত ধারায় পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা চাকরিতে বহাল থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, বর্তমানে আদালতের রায়ের কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন। তবে কমিশনের মত হলো, যেহেতু তারা পূর্ণকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত, তাই চেয়ারম্যান বা মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করাই সমীচীন। এ কারণে স্থানীয় সরকার আইনে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে সাত লাখেরও বেশি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৪৩ হাজার, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ২২ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। সংগঠনটির সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার যদি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেয়, তাহলে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিধান গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু সরকারি মর্যাদা না দিয়েই তাদের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করা হলে শিক্ষক সমাজে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন আইন ও বিধিমালা সংস্কারের কাজ করছে। অক্টোবর থেকে সম্ভাব্য নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন আইনে সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশোধনীতে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্যতার তালিকায় "কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত ব্যক্তি"—এ ধরনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব থাকবে। সংসদে আইন পাস হলে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকরিতে বহাল থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত আইনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, ফেরারি আসামি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ও পরিচালকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করা, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ঋণগ্রহীতার সংজ্ঞায় গ্যারান্টারকে অন্তর্ভুক্ত করা।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা বাতিল এবং নির্বাচনি জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়ও বিবেচনা করছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, চলতি সপ্তাহেই কমিশনের বৈঠকে এসব সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সরকার চাইলে সেগুলো সংসদে উত্থাপন করবে এবং সংসদের অনুমোদনের পরই সংশোধিত আইন কার্যকর হবে।
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/