
দক্ষিণ লেবাননে আবারও বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার চালানো এই নতুন অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঠিক একদিন পরই ইসরায়েল এই পদক্ষেপ নিলো। এর আগে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছিল, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও ইসরায়েলে পাল্টা আক্রমণ চালাবে।
লেবাননের সরকারি সংবাদমাধ্যম 'ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি' (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক উপকূলীয় শহর টায়ারের একটি আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এর আগে সোমবারও ওই একই এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক সূত্র এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে দাবি করেছে, টায়ার অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো’ ধ্বংস করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
গত রবি ও সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের পর পুরো অঞ্চলে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে—লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা চুপ থাকবে না।
এদিকে, আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখার জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ওয়াশিংটন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইরানের সাথেও একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
তবে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সংগঠনটির সাফ কথা—লেবাননের মাটিতে যতক্ষণ একজন ইসরায়েলি সেনাও অবস্থান করবে, ততক্ষণ তারা কোনো চুক্তি মানবে না।
মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) টায়ার শহরের বাসিন্দাদের জন্য একটি জরুরি বার্তা দেন।
তিনি অভিযোগ করেন, “হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েলের ভেতরে হামলা চালিয়েছে। ফলে আইডিএফ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে বাধ্য হচ্ছে।”
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এবার টায়ারের খ্রিস্টান প্রধান এলাকার বাসিন্দাদেরও ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি বিরল ঘটনা। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ এখন ওইসব এলাকাকেও তাদের কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করছে।
উপকূলীয় শহর টায়ার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্তমান নিয়ন্ত্রণরেখার উত্তর দিকে অবস্থিত। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ চুক্তি লঙ্ঘন করার কারণেই তারা এই এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের এই নতুন পদক্ষেপ হিজবুল্লাহর সাথে তাদের সংঘাতকে যেমন বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে, ঠিক তেমনি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার পারদ চড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় আকারের যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
(তথ্যসূত্র: সিএনএন)
প্রধান সম্পাদক : মো. আবদুল লতিফ জনি, সম্পাদক ও প্রকাশক : মাহাবুবুল হক, বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়: ১৭৭, মাহতাব সেন্টার, ৮ম তলা, বিজয়নগর, পুরানা পল্টন, ঢাকা -১০০০। ফোন নাম্বার: +৮৮০২৯৬৯৭৪৮৮৮৯, ই-মেইল: editor.dso@gmail.com, ওয়েবসাইট: https://shirsoaparadh.com/