
লিটন রায়, মাদারগঞ্জ (জামালপুর):
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ঘুঘুমারী মির্জা কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক হাজিরা, দায়িত্ব পালন এবং সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। তার অনুপস্থিতির কারণ এবং কীভাবে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে—এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বাদলের ভাতিজা মিজানুর রহমান সাজু বিদেশে অবস্থান করেও শিক্ষকতার বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিদেশে অবস্থানকালীন তার হাজিরা কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং বেতন-ভাতা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোন নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে মাদারগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সহায়তায় বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও সংশ্লিষ্ট কিছু নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা, ছুটির আবেদন, এমপিও/বেতন-ভাতা সংক্রান্ত কাগজপত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে কোনো শিক্ষক দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন না করে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও যথাযথভাবে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
